
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩৭
ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ।
এ দেশের প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো বৈচিত্র্যময় সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এবং সিলেটের চা-বাগানসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। এ খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতাকে সরকার স্বাগত জানাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার এমন অংশীদারত্ব চায়, যাতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করতে আগ্রহী সরকার।
সভায় জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁরা আন্তরিক এবং দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এ সময় পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিনিয়োগকারীদের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাই। তাদের বিনিয়োগ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
তিনি আরও জানান, জাপানি বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরির পথ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবে বৈষম্যহীন ও শান্তিময় সমাজ গড়ার আহ্বান স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩৪

ছবি সংগৃহীত।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
উৎসবের এই পুণ্য লগ্নে তিনি বৈষম্যহীন, শান্তিময় এবং সুদৃঢ় সামাজিক সংহতিতে সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক শুভেচ্ছা বার্তায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শারদপ্রাতের উদ্ভাসিত আলোয় আশ্বিনের শেষভাগে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এই শারদীয় উৎসব উপলক্ষ্যে তিনি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিশাল উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সমাজে বিরাজমান যে–কোনো ধরনের বৈষম্য ও অবিচারের অন্ধকার কেটে যাবে এবং সর্বত্র সাম্য, মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের এক নতুন ভোরের উদয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে, শাশ্বত বাংলার আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য সর্বদা অক্ষুণ্ন থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্পিকার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, উৎসবের এই দিনগুলো মানুষের জীবনে অফুরন্ত প্রেরণা বয়ে আনুক এবং আগামী দিনগুলোকে আরও বেশি সাফল্যমণ্ডিত ও উৎসবমুখর করে তুলুক। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ এবং জীবনবোধ সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক। তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই পরিস্ফুটিত হবে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ববোধ।
সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই মহান চেতনাকে বুকে ধারণ করে সবাই মিলে একটি সুন্দর, শান্তিময় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন এবং উৎসবের অনাবিল আনন্দ যেন সবার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্পিকার।
সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩০

ছবি সংগৃহীত।
রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে। সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয়ে অফিস করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ।
পিস্তল হাতে অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিবিপ্রধান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৭

ছবি সংগৃহীত।
এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। অভিযানের সময় একদল লোককে তাড়া করার পাশাপাশি পিস্তল তাক করে তাদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
এ ঘটনায় কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে এক হাতে হ্যান্ড মাইক ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে একদল লোককে তাড়া করছেন তিনি।
একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার প্রস্তুতি নিয়ে লোকগুলোর দিকে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যায়।
ঘটনাটি রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মূল্যায়নের জন্য এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেখানে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অভিযানে একজন প্রতিমন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
পোস্টে বলা হয়, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন তিনি। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
