The Sangbad · সাধারণ
আগামীকাল মহাষষ্ঠী : দেবী বরণে প্রস্তুত নওগাঁর ৮৩৬ পূজামণ্ডপ
১৫/১০/২০২৬

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শঙ্খধ্বনি, ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের শব্দে মুখর হয়ে উঠবে নওগাঁর পূজামণ্ডপগুলো। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। এ বছর জেলার ১১টি উপজেলায় ৮৩৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৩৫টি।আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের এই উৎসব।পূজার প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। দেবীকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ। উৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজক ও ভক্তরা।৮৩৬ মণ্ডপে পূজাজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, এবার নওগাঁ সদর উপজেলায় ৭০টি, পৌর এলাকায় ৫৮টি, মহাদেবপুরে ১৬০টি, মান্দায় ১২৬টি, বদলগাছীতে ১০৮টি, পত্নীতলায় ৮৪টি, নিয়ামতপুরে ৫৫টি, আত্রাইয়ে ৫৪টি, রানীনগরে ৫০টি, ধামইরহাটে ৩২টি, সাপাহারে ২০টি এবং পোরশায় ১৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর জেলায় ৮০১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তার আগের বছর সংখ্যা ছিল ৮১৯টি। সেই তুলনায় গত দুই বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও চলছে প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড়, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলি দিয়ে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও অসুরের প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ করে এখন রং ও অলংকরণের কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি অন্য এলাকা থেকে আসা কারিগররাও এতে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিমার পাশাপাশি ঢাক-ঢোল, কাঁসি ও বাঁশিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুত করছেন সংশ্লিষ্ট কারিগরেরা। মণ্ডপগুলোতে চলছে আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ।তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন শিল্পীরা। তাঁরা জানান, খরচ বাড়লেও ক্রেতারা আগের দামেই প্রতিমা নিতে চান, ফলে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হয়। তারপরও পৈতৃক পেশা ও ধর্মীয় আবেগের টানে তাঁরা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।নিরাপত্তায় প্রশাসনের প্রস্তুতিশান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। মণ্ডপে আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন কমিটি ও মন্দির কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে।নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা ব্যক্তি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর হাতে তা দমন করবে।’ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সবার অংশগ্রহণে এবারের উৎসব সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও ভক্তদের।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗