ধূমপানের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ই-সিগারেট বা ভেপকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভেপিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফল নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, একই বয়সের ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে ভেপিংয়ের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। কিশোরীদের মধ্যে এই অভ্যাসের বিস্তার তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
ভেপিং কী এবং কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
ভেপিং হল ই-সিগারেটের মাধ্যমে বিশেষ তরল গরম করে তৈরি হওয়া অ্যারোসল বা সূক্ষ্ম কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে টেনে নেওয়া। এই তরলে নিকোটিন, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং সুগন্ধি উপাদান থাকতে পারে। নানা ধরনের ফ্লেভার, আকর্ষণীয় নকশা এবং সহজে ব্যবহার করার সুবিধার কারণে তরুণদের একাংশের কাছে ভেপিং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অনেকের ধারণা, ভেপে সাধারণ সিগারেটের মতো তামাক পোড়ানো হয় না বলে এটি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। ভেপিংয়ের মাধ্যমে শরীরে নিকোটিন-সহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করতে পারে। ফলে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
কিশোরীদের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোরে মস্তিষ্কের বিকাশ চলতে থাকে। এই সময়ে নিকোটিনের সংস্পর্শে এলে আসক্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা এবং মেজাজের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। ভেপের অ্যারোসল শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভেপিংয়ের প্রবণতা কমাতে পরিবার, স্কুল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ভেপিংয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সহজ ভাষায় বোঝানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্ধুদের চাপ সামলানো এবং মানসিক উদ্বেগের মোকাবিলা করার বিষয়ে কিশোর-কিশোরীদের সাহায্য করাও জরুরি।
ভেপকে নিরীহ অভ্যাস বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। বিশেষত কম বয়সে নিকোটিনের সংস্পর্শ এড়ানো এবং এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
