ওয়েন রুনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্কোয়াডের ‘শিশুসুলভ’ আচরণের জন্য তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ভুল শুধরে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার কোমোর মাঠে ৪-১ গোলে হারার পর ফার্নান্দেজ ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে বক্তব্যে আলোচনার জন্ম দেন, ঠিক মার্তিনেজ বোর্ড কর্মকর্তাদের ধুয়ে যেভাবে আলোচিত হন।
বুধবার রাতে শোচনীয় পারফরম্যান্সে চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে পঞ্চম হার দেখেছিল ম্যানইউ। ৬৭ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া ফার্নান্দেজ ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, ‘এরপর, ৬৭ মিনিটে মাঠ ছাড়া ফার্নান্দেজ ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ম্যান-টু-ম্যান প্রেস না করা এবং মাঝে মাঝে পেছনে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি স্টাফদেরই ছিল।’
এর আগে লিসান্দ্রো অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে হারের পর বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় সদস্য জেসন উইলকক্সের দিকে আঙুল তোলেন।
সাম্প্রতিক ফলাফলের কারণে নিঃসন্দেহে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। তাই বলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর গেম প্ল্যানের জন্য ফার্নান্দেজের কাছ থেকে কোচের সমালোচনা মেনে নিতে পারছেন না রুনি। বর্তমান অধিনায়ক ও লিসান্দ্রোকে স্বার্থপর বললেন সাবেক ফরোয়ার্ড।
দ্য ইউনাইটেড স্ট্যান্ড পডকাস্টে রুনি বলেছেন, ‘যখন মার্তিনেজ কথা বলেছিল তখনই আমি বলেছিলাম এটা একটা বিপর্যয় কারণ এই ধরনের কতা ড্রেসিংরুমকে বিভক্ত করে দেবে। সেটা ছিল শুরু। আমরা এবার ব্রুনোর ক্ষেত্রে এটা দেখলাম। আরও অনেক খেলোয়াড় এভাবে কথা বলবে। এর কারণ হলো, এই খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিতে চায় না।’
তিনি বলে গেলেন, ‘ব্রুনো যা বলেছে সেটা ঠিক নাকি ভুল তা নিয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু আপনাকে মাঠের দায়িত্ব নিতে হবে। একটি দল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং একটা সময় ছিল যখন আমি ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন কথা বলতাম না। কিন্তু মাঠে তার জন্য আমি ইটের দেয়ালও ভেঙে ফেলতে পারতাম।’
বর্তমান খেলোয়াড়দের স্বার্থপর বললেন রুনি, ‘এই খেলোয়াড়রা স্বার্থপর। তারা শুধু নিজেদের কথা ভাবে। তাদের সতীর্থদের তোয়াক্কা করে না। ম্যানেজারকে পরোয়া করে না, এমনকি অন্য স্টাফ বা ভক্তদেরও।’
খেলোয়াড়রা বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে দাবি সাবেক ইংল্যান্ড তারকার, ‘যদি তারা নিজেদের প্রাপ্যটা না পায়, তাহলে তারা বাচ্চাদের মতো আচরণ করে এবং তাদের খেলনাগুলো ছুড়ে মারে, তারা নিজেদের দোষ না দেখে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। তাদের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।’
লিসান্দ্রো ও ফার্নান্দেজকে নিজেদের দিকে তাকাতে বললেন, ‘যদি সে আয়নায় নিজের দিকে তাকায়, যদি মার্তিনেজ আয়নায় নিজের দিকে তাকায়, তাহলে সব খেলোয়াড়ই... তারা দেখবে যে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা প্রতিবিম্বটি আসলে তারাই এবং তা যথেষ্ট ভালো নয়।’
এফএইচএম
