দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল
রাজনীতি ডেস্ক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা…
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১
রাজনীতি ডেস্ক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত নেতার ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেলাওয়ার হোসেন। গত সংসদ নির্বাচনে অল্পের জন্য পরাজিত হলেও এবার নতুন সমীকরণে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জোটের নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনি প্রচারণায় মাঠে নেমে নানামুখী বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন জামায়াতপ্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তার দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং গণসংযোগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিতর্কিত বা কারচুপির নির্বাচন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিত্ব ও ভোটারদের বিশেষ অনুভূতির কারণে বড় ব্যবধানের জয় পেয়েছিল বিএনপি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতায় সেই প্রভাব কিছুটা ম্লান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামায়াত ও তাদের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার দাবি করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
এদিকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিলেও সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতপ্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি না হলে জনগণ দাঁড়িপাল্লা প্রতীককেই বেছে নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং পরিবর্তনের হাওয়া তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে বলে জোরালো বিশ্বাস দলটির নীতিনির্ধারকদের। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটাররা।
