চট্টগ্রামের লালদিঘীপাড় এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল গরুর খামার গড়ে তোলার অভিযোগে ব্যাংকের এক ক্যাশ ইনচার্জ ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। আত্মসাৎ করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে নগরীর হাটহাজারী উপজেলায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি লাভজনক গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে দুদক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেন প্রধান অভিযুক্ত মো. কামরুল হোসেন (৪১)। তিনি নগরীর লালদিঘীপাড় এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ক্যাশ ও ভল্টের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এই আর্থিক অনিয়ম চালান। মামলায় তার সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরের (২৫)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক ভল্টের হিসাব গরমিল রাখতে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যের নোট লুকিয়ে রাখা হতো। একইসঙ্গে হিসাবের খাতায় কৃত্রিম উপায়ে তথ্য সমন্বয় করে ভল্টে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রয়েছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা হতো। পরবর্তীতে ভল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া সমস্ত অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুলের হাত থেকে চলে যায় তার সহযোগী তানভীরের কাছে। এই পুরো অর্থ দিয়ে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামক গরুর খামারটি গড়ে তোলা হয়, যেখানে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০টি উন্নত জাতের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনকারী গরু রয়েছে। খামারটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সহযোগী তানভীর নিজে।
৯ আগস্ট নিয়মিত দৈনন্দিন লেনদেন শেষে ব্যাংকের হিসাব মেলানোর সময় ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিশাল ঘাটতি ধরা পড়ে। এর পরদিন ১০ আগস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার গাম্ভীর্য বিবেচনা করে বিষয়টি দুদকের নিবিড় তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র কমিশনের জিম্মায় নেওয়া হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক মো. আল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই জালিয়াতির নেপথ্যে ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
