নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার চারটি সু-৩৪এম বোমারু বিমান ধ্বংসের দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় আরও দুটি রুশ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের বরিসোগ্লেবস্ক সামরিক বিমানঘাঁটিতে রাতের হামলায় ছয়টি সু-৩৪এম বোমারু বিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ধ্বংস এবং দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। খবর কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের।
জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশরা আমাদের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে এগুলো (সু-৩৪এম বিমান) ব্যবহার করত। এই বিমানগুলো ইউক্রেনে নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং সেগুলোতে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা যুক্ত করা ছিল। রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে, তাই আমাদের দূরপাল্লার অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
ইউক্রেনের নৌবাহিনী টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলাটি চালানো হয়েছে ‘নেপচুন’ উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাহায্যে। দেশটির জেনারেল স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, বিমানঘাঁটির এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ একাধিকবার ড্রোন হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ভিডিওতে বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও বড় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা গেছে। ঘাঁটিটি সম্মুখ সমররেখা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
‘নেপচুন’ ইউক্রেনের তৈরি ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা কয়েকশ কিলোমিটার। ২০২২ সালের এপ্রিলে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান যুদ্ধজাহাজ ‘মোস্কভা’ ডুবিয়ে দিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল ইউক্রেন। ২০২৫ সালে ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত সংস্করণ উন্মোচন করে দেশটি। সংস্করণটি এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। একই বছরের মার্চে জেলেনস্কি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে।
সু-৩৪এম হলো রাশিয়ার সু-৩৪ ফাইটার-বোমারু বিমানের উন্নত সংস্করণ। সু-৩৪ মাঝারি পাল্লার ফাইটার-বোমারু বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় প্রায়ই এসব বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে এবং বেশ কয়েকবার সেগুলো ভূপাতিত করার দাবিও জানিয়েছে।
