বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জমজম ব্রাদার্সের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্প সম্পর্কে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না। এ ছাড়া প্রকল্পটির সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পৃক্ততা নেই।
মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, তার অনুরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অনিচ্ছাকৃত এ ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার ভানুয়াতুর নাগরিকত্বে বিনিয়োগের বিষয়টি প্রচার করছেন। এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহর মতো পরিচিত ক্রিকেটারের এমন প্রচারে যুক্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সায়েরের পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এর পরই জমজম ব্রাদার্সকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান মাহমুদউল্লাহ। তার অনুরোধে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি লেখেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। কিছুদিন আগে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাদের আমন্ত্রণে একদিন তাদের অফিসে গেলে, তারা তাদের একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিষয়ে ভিডিও করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।
নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি লেখেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব, ইনশাআল্লাহ। সবার ভালোবাসা, সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
যে আই
