প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপের সামনে ভিড় জমিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ভিড়ে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, রয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল চারটা থেকে জে এম সেন হলের প্রধান ফটকের সামনে মানুষের এই ভিড় দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। এ উপলক্ষে মণ্ডপে ৩০০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরজুড়ে প্রস্তুতি জোরদার করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, মণ্ডপে নির্ধারিত ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫০টি রাখা হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য। বাকি ১৫০টি আসনে থাকবেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, মণ্ডপে ৩০০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের জন্য প্রবেশ কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। কার্ড প্রদর্শন করে তাঁরা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিকেল থেকেই জে এম সেন হলের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সেখানে অপেক্ষমাণদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকাকে তিনি দলের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল চন্দ্র নাথ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোনো সরকারপ্রধানের চট্টগ্রামে আসার ঘটনা তাঁদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, সুখে-দুঃখে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপ পরিদর্শন, প্রস্তুতি তদারকি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা কাজ করছেন। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরজুড়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। জে এম সেন হলের ঐতিহ্য ও পরিবেশ তুলে ধরতেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মসূচিও রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে একটি সাংগঠনিক সভা আয়োজনের কথা রয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ জন অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চট্টগ্রাম নগরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে নির্ধারিত অতিথিদের জন্য আসন ও প্রবেশ কার্ডের ব্যবস্থা, চার স্তরের নিরাপত্তা এবং নগরজুড়ে প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ দেখা গেছে।
