Published on
:
2 min read
এই সময়: কলকাতা শহর ও আশপাশের এলাকার বড় পুজোর ভিড় এড়াতে যখন ভিআইপি পাসের ব্যবস্থা করছে ক্লাব থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, তখন জেলায় জেলায় ভিআইপি পাসের বিকল্প হয়ে উঠেছে ‘কুপন’।
মহানগরের ভিড় এড়াতে কলকাতা বা শহরতলির যে বাসিন্দারা ফঁাকায় ফাঁকায় জেলার বড় পুজো দেখতে ছুটেছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা, ভিড় এড়িয়ে ঠাকুর দেখতে কিনতে হয়েছে মাথাপিছু ১০ বা ২০ টাকার ‘কুপন’। হুগলির বলাগড় বা জিরাট থেকে নদিয়ার তাহেরপুর, বাদকুল্লা — সর্বত্রই কম–বেশি একই ছবি। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলির বাইরে হুগলি ও নদিয়ার কয়েকটি এলাকায় বিগ বাজেটের পুজো ভিড় টানছে।
১৭ অক্টোবর, শনিবার, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরে শহর ছেড়ে হুগলির গ্রামীণ এলাকায় গাড়ি ছুটিয়েছিলেন এক পুলিশ অফিসার। তাঁর অভিজ্ঞতা — সেখানেও মণ্ডপে বিশাল লাইন। দেখেন, কয়েক জন যুবক হাতে কুপন বই নিয়ে ঘুরছেন। কুপন কিনলেই ভিআইপি হিসেবে মণ্ডপে ঢোকার সুযোগ মিলবে। প্রায় বাধ্য হয়েই পরিবারের সকলের ঢোকার ব্যবস্থা করতে কুপন কেনেন ওই অফিসার। তাঁর অভিযোগ, যুবশক্তি থেকে টিএনএস ক্লাব — সর্বত্র একই ছবি।
নদিয়ার তাহেরপুর, বাদকুল্লাও গত কয়েকবছর ধরে বিগ বাজেটের পুজো হিসেবে টেক্কা দিচ্ছে। ভিড়ও হচ্ছে প্রবল। সেখানেও ভিড় এড়িয়ে প্রতিমা দর্শনের জন্য অনেকেই ২০ টাকার কুপন কিনছেন। কোনও কুপনের উপরে ক্লাবের নাম থাকলেও, কোথাও আবার তারও বালাই নেই। এমন কুপন তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনের আগাম অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
দর্শনার্থীদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতার বিগ বাজেটের পুজোয় ভিআইপি পাস দেওয়া হয়। কয়েকটি ই–কমার্স সংস্থা আবার টাকার বিনিময়ে কিছু পুজো মণ্ডপে ঢোকার পাস দেয়। জেলাগুলিতে মূলত বড় বড় মাঠের মধ্যে মণ্ডপ তৈরি হয়। তার চারিদিকে বড় রাস্তা থাকে। ফলে সেখানে অত ভিড় হওয়ার কথা নয়। অভিযোগ উঠেছে, কোথাও কোথাও কৃত্রিম ভিড় তৈরি করে এ ভাবে ‘কুপন’ বেচা হচ্ছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, আচার, আড়ম্বর, ভক্তি, শ্রদ্ধা, ঐতিহ্য থেকে প্রতিযোগিতা — সবমিলিয়ে দুর্গাপুজো ক্রমশ বাণিজ্যিক মোড়কে বন্দি হচ্ছে। সেখানে শিল্পকলা দেখার জন্য পয়সা খরচ করতে হচ্ছে–এটাই বাস্তব।
