অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় একটি পেট্রলপাম্প ঘিরে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তির চিত্র। শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিজয় সরণি এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
রাত ২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত সড়কে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক। হেডলাইটের আলো আর ক্লান্ত মুখে অপেক্ষমাণ মানুষের দৃশ্য যেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
রায়েরবাগ থেকে আসা মোটরসাইকেলচালক কামরুল হাসান রাত ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোরের দিকে মাত্র ৬০০ টাকার তেল পান। দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি বলেন, নিয়মিত এমন পরিস্থিতি হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।
গণনা করে দেখা যায়, লাইনে প্রায় ৪৮৩টি মোটরসাইকেল, ৩৬৯টি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ৩১টি ট্রাক অপেক্ষা করছিল। ক্লান্তিতে কেউ মোটরসাইকেলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ছেন, কেউবা সময় কাটাতে মোবাইলে খেলছেন বা সড়ক বিভাজকে বসে আছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে। যেখানে প্রতিদিন ৫০-৫২ হাজার লিটার তেল পাওয়া যেত, এখন তা নেমে এসেছে ৩৭-৪০ হাজার লিটারে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক—ট্যাঙ্কে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
এই ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ভিড় সামাল দিতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকের জন্য আলাদা লাইন করা হলেও চাপ কমেনি।
অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা মানুষের চাহিদা মেটাতে আশপাশে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান। রাতভর চা, সিগারেট, ঝালমুড়ি ও হালকা খাবার বিক্রি হয়েছে জমজমাটভাবে। এমনকি শৌচাগারেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক ভিড়।
ডেমরা থেকে আসা রাইডশেয়ার চালক শাহীন খান জানান, একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এখানে দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চাহিদা সামাল দিতে পাম্পগুলো তেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দিয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ৬০০ টাকা এবং ট্রাকের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে।
রোববার সকাল পর্যন্তও লাইনের দৈর্ঘ্য খুব একটা কমেনি। নতুন করে গাড়ি যুক্ত হওয়ায় অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ।
রাজধানীর বেশিরভাগ পাম্প রাতে বন্ধ থাকায় সীমিত কয়েকটি পাম্পেই চাপ বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহনশ্রমিকেরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
