কালবেলা · রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ, মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত
২৪/১০/২০২৬

উন্নয়ন বনাম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-তৎপরতা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয়ে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
বিএনপি প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়ন ও চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিপরীতে, পরিবর্তনের স্লোগানে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর দুই প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল নির্বাচনী এলাকা। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন রহিমাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। রাতে সাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এবং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে দিনের প্রচার শেষ করার কথা তার।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) নির্বাচনী জনসভা করেন। এতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভোটের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
আগামী ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখন ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗