স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকার দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বিগত ২০ বছরের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পাঁচতারকা হোটেল মম ইন-এ বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ বছর দেশের ইতিহাসে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে ৩টি আলাদা অঞ্চলে সশরীয় উপস্থিত হয়ে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেছেন, যা একটি বড় দৃষ্টান্ত। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দেওয়ায় সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ২০০ পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসন যৌথভাবে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করেছে।
বগুড়াকে একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না, বরং বিগত ২০ বছরের বঞ্চনা ও ঘাটতি পূরণ করতেই এই উদ্যোগ।
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনমাথা রেলঘুমটি এলাকায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরাফাত রহমান কোকো ন্যাশনাল প্যারা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দর নির্মাণকাজের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে, যার জন্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে এবং ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এর কাজ দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, করতোয়া নদী খনন, পুনঃখনন এবং দুই পাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ১০৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার ভাঙন রোধে এবং কৃষি ও মৎস্য চাষের প্রসারে ড্যাম নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বগুড়া চারমাথা থেকে নওগাঁ-রাজশাহী ফোর লেন, শেরপুরে ফ্লাইওভার নির্মাণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজকে ১৮০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।
