নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে সম্ভাবনার নতুন আশ্বাস নিয়ে ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পেরিয়ে আজ (২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে, দীর্ঘ এই পথচলায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসন, শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণার সুযোগ। এসব সংকট কাটাতে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আবেদন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ২২টি বিভাগে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি গত এক দশক ধরে থমকে আছে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প। এখনো চালু হয়নি রোকেয়া স্টাডিজ। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েই এগিয়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করে। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়। একই বছরের ৪ এপ্রিল ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে চলে এর কার্যক্রম।
পরে রংপুর ক্যাডেট কলেজ ও কারমাইকেল কলেজের কাছাকাছি ৭৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস। সেখানে রয়েছে চারটি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, গ্রন্থাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও তিনটি আবাসিক হল। এর মধ্যে ছেলেদের জন্য দুটি এবং মেয়েদের জন্য একটি হল রয়েছে। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসনব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন রয়েছে আরো একটি ছাত্রী হল।
আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকস্বল্পতাও ব্যাহত করছে গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২২টি বিভাগে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ২০৮ জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেও ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, “নানা সংকটের মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়েছে। সেশনজট নিরসনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা এবং পঠন-পাঠনের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা হবে। একইসঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে এক হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন এবং আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী এবং সন্ধ্যা ৭টায় আতশবাজির মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
নানা সীমাবদ্ধতায় আবাসন ও শিক্ষক সংকটের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রত্যাশা নিয়ে সামনে এগোতে চায়। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান সংকটের সমাধান হলে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
