সড়কে মৃত্যু, রাষ্ট্রের নির্বিকারত্ব
মানুষের জীবনের চেয়ে কি পরিসংখ্যানের মূল্য বেশি?
সাইফুল ইসলামপ্রকাশ:
সড়কে প্রতিদিন ৬৬ জন নিহত হন, পঙ্গুত্ব বরণ করেন ১০৪ জন। সংখ্যাগুলো সরকারি হিসাবের। অর্থাৎ, এই মৃত্যুর মিছিলের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই; রাষ্ট্রের নিজের নথিতেই মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার ভয়াবহ চিত্রটি ধরা পড়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত মৃত্যু, এত পঙ্গুত্ব, এত পরিবারের কান্না রাষ্ট্রের বিবেককে কতটা নাড়া দেয়? প্রতিদিন এতগুলো মানুষ সড়কে প্রাণ হারান, অথচ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তার কতটা প্রতিফলন দেখা যায়? মানুষের জীবন কি আমাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে এতটাই সস্তা যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান বাড়ে, সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়ায়, তারপর সবকিছু আবার আগের মতো চলতে থাকে?
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সংকট। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা খুললে, টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে দুর্ঘটনার খবর চোখে পড়ে। কোথাও বাসের চাপায় প্রাণ গেছে পথচারীর, কোথাও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিভে গেছে তরুণের জীবন, কোথাও সড়ক পার হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিশু কিংবা বৃদ্ধ।
কোনো দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি মারা যান, কোনো দুর্ঘটনায় মা-বাবা হারিয়ে শিশুর জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত, আবার কোনো দুর্ঘটনায় সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান পরিবারের ভরসা।
সংবাদে এসব ঘটনার বিবরণ থাকে, কিন্তু সংবাদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেকেই ভুলে যাই—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি মানুষ, একটি পরিবার, অসংখ্য স্বপ্ন এবং এক অনিবার্য শূন্যতা।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল মৃত্যুর হিসাব রাখা নয়; মৃত্যুর কারণ দূর করাও। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন, বিবৃতি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাময়িক সহায়তা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা—এসবের প্রয়োজন আছে।
কিন্তু এসবই যদি দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তবে রাষ্ট্রীয় তৎপরতা শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
মানুষ জানতে চায়, দুর্ঘটনা কেন ঘটল, একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে কেন এবং ভবিষ্যতে এমন মৃত্যু ঠেকাতে কী করা হলো। মানুষ কেবল শোকবার্তা চায় না; নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চায়।
সড়কে মৃত্যুর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অদক্ষতা, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অনিয়ন্ত্রিত মোটরসাইকেল চলাচল, সড়কের ত্রুটি, অপর্যাপ্ত ফুটপাত, অনিরাপদ পারাপার এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিপজ্জনক বাস্তবতা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, প্রভাবশালীদের ছাড় পাওয়ার সংস্কৃতি এবং পরিবহন খাতে অনিয়মের নানা অভিযোগ।
ফলে সড়ক শুধু যাতায়াতের পথ থাকছে না; অনেক মানুষের জন্য তা হয়ে উঠছে প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ এক যাত্রাপথ।
আমাদের সড়ক ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা হলো, এখানে নিয়মের চেয়ে ক্ষমতা, শৃঙ্খলার চেয়ে প্রভাব এবং নিরাপত্তার চেয়ে তাড়াহুড়ো অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পায়।

একটি বাস নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করলে, একটি ট্রাক অতিরিক্ত মাল বহন করলে কিংবা কোনো চালক ট্রাফিক আইন ভেঙে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালালে তার পরিণতি কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য সীমাবদ্ধ থাকে না; ঝুঁকির মুখে পড়ে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ।
অথচ আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে আইন থাকার পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আইন বইয়ে লেখা থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রকৃত পরীক্ষা।
সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের অবকাঠামো পরিকল্পনায় মানুষের নিরাপত্তা সব সময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ কিংবা উড়ালসড়ক তৈরিই নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার একমাত্র মাপকাঠি নয়।
পথচারীর জন্য ফুটপাত, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকের সুরক্ষা, গণপরিবহনের শৃঙ্খলা, কার্যকর সড়কবাতি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে বৈজ্ঞানিকভাবে ঝুঁকি নিরসনের ব্যবস্থা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শহরের ব্যস্ত সড়কে পথচারীকে যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—সড়কটি কি মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত, নাকি মানুষকে সড়কের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই বেঁচে থাকতে হবে?
বাংলাদেশে গণপরিবহন ব্যবস্থার সংকটও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত, নির্ভরযোগ্য ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহনের অভাব মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য করে। বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্থানের বাইরে গাড়ি থামানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কে যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে, চালকদের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একজন ক্লান্ত চালকের হাতে যখন শত শত যাত্রীর জীবন থাকে, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত অসতর্কতার বিষয় থাকে না; এটি পরিবহন ব্যবস্থাপনারও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার পর দায় নির্ধারণ এবং বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। কোনো দুর্ঘটনায় চালকের অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে যদি যানবাহনের ত্রুটি, সড়ক নির্মাণের অবহেলা, তদারকির ব্যর্থতা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা উঠে আসে, তবে সেসব দায়ও নির্ধারণ করতে হবে।
কেবল চালককে শাস্তি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে প্রকৃত সমস্যার অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। আবার দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রমাণ ও তদন্তের অপেক্ষা না করে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করাও ন্যায়বিচারের পথ নয়। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি।
প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন এত মানুষ মারা যাওয়ার পরও সড়ক নিরাপত্তা কেন জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে উঠে আসে না? কেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের নিয়মিত মূল্যায়ন, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে না? সড়ক পরিবহন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
কিন্তু প্রতিষ্ঠান থাকা আর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা এক কথা নয়। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা থাকলে কোনো উদ্যোগই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
রাষ্ট্রের সাফল্য কেবল সেতু, সড়ক কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের পরিসংখ্যানে বিচার করা যায় না। একটি সড়ক কতটা নিরাপদ, কতজন মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কতটা কমেছে এবং আহত মানুষ কতটা দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছেন—এসবও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
উন্নয়নের নামে যদি মানুষের যাতায়াতের গতি বাড়ে, অথচ নিরাপত্তা না বাড়ে, তবে সেই উন্নয়নের হিসাব অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যে রাষ্ট্র মানুষের জন্য রাস্তা তৈরি করে, সেই রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব নিশ্চিত করা যে রাস্তা মানুষের মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠবে না।
এখানে সরকারের দায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সরকার বলতে শুধু মন্ত্রিসভা বা কোনো একটি মন্ত্রণালয়কে বোঝালে চলবে না; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সব সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।
পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী এবং নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কিন্তু সবার দায়িত্বের কথা বলে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্বকে আড়াল করা যাবে না। কারণ আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।
সড়কে প্রতিদিন ৬৬ জন নিহত এবং ১০৪ জন পঙ্গু হওয়ার যে হিসাব সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিসংখ্যানগত ভিত্তি ও গণনার পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে যাচাই করা জরুরি। তবে সংখ্যাগুলোর নির্ভুলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সড়ক নিরাপত্তার মূল সংকটকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। হিসাবটি যদি কিছুটা কমও হয়, তবু প্রতিটি মৃত্যু রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ।
একটি মৃত্যুও যদি প্রতিরোধযোগ্য হয়, তবে সেই মৃত্যু ঠেকানোর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার। আর সংখ্যাটি যদি বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে না ধরে, তবে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। দুর্ঘটনার খবর শুনে কিছুক্ষণ শোক প্রকাশ করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানাই, তারপর অন্য খবরে মনোযোগ দিই।
কিন্তু যে পরিবারটি তার সন্তানকে হারিয়েছে, যে মা তার সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় আর কোনো দিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবে না, যে মানুষটি দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে পরিবারের বোঝা নয়, বরং পরিবারের অসহায় নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাবে—তাদের জীবনে সেই দুর্ঘটনা কোনো সাময়িক সংবাদ নয়। সেটি আজীবনের ক্ষত।
রাষ্ট্রের নির্বিকারত্বের অভিযোগ তাই কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি জবাবদিহির দাবি। সরকারকে বলতে হবে, সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব পদক্ষেপের ফল কী এবং ব্যর্থতার দায় কে নেবে।
দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সংস্কার, চালকের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গতিসীমা কার্যকর করা, ফুটপাত ও নিরাপদ পারাপার নির্মাণ, দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার তথ্যের স্বচ্ছ প্রকাশ—এসবকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী মানুষের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু তার ক্ষমতার আয়তনে নয়, নাগরিকের জীবনের প্রতি তার দায়বদ্ধতায়। রাষ্ট্র যদি মানুষের ভোট চায়, কর নেয়, আইন মানতে বাধ্য করে, তবে মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব থেকেও সে অব্যাহতি পেতে পারে না। সড়কে মৃত্যু কমানো কোনো সরকারের দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
সড়কে প্রতিদিন ৬৬ জনের মৃত্যু আর ১০৪ জনের পঙ্গুত্ব যদি আমাদের নীতিনির্ধারকদের কাছে নিছক পরিসংখ্যান হয়ে থাকে, তবে সংকট শুধু সড়কে নয়, সংকট আমাদের রাষ্ট্রচিন্তায়ও।
যে রাষ্ট্র মানুষের মৃত্যু গুনতে পারে, তাকে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতেও সক্ষম হতে হবে। অন্যথায় সড়কে ঝরতে থাকা প্রতিটি প্রাণ আমাদের উন্নয়নের দাবির সামনে একেকটি অমোচনীয় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
মানুষ রাস্তায় নামে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য, মৃত্যুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য নয়। এই সহজ সত্যটি রাষ্ট্র যত দিন না উপলব্ধি করবে, তত দিন সড়কের মৃত্যুমিছিল থামবে না। আর তখন প্রশ্নটি আরও নির্মম হয়ে উঠবে—এই রাষ্ট্র কি কেবল মানুষের মৃত্যুর হিসাব রাখবে, নাকি মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্বও পালন করবে?
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
