রেলপথের আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা-কুমিল্লা ৯০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ বা ‘কর্ড লাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত এই নতুন রেলপথটি কুমিল্লা থেকে শুরু হয়ে দাউদকান্দি, শ্যামপুর ও ফতুল্লা হয়ে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। বর্তমানের আখাউড়া-ভৈরব বাজার-টঙ্গী ঘুরে ঢাকা যাওয়ার ৩২০ কিলোমিটার দূরত্বের পরিবর্তে এই কর্ড লাইন নির্মিত হলে দূরত্ব কমবে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার। এর ফলে ঢাকা থেকে লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এছাড়া পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পটির মূল আকর্ষণ হলো এর আধুনিক প্রকৌশল নকশা। দীর্ঘ এই ৯০ কিলোমিটার রেলপথের একটি বড় অংশ উড়ালপথে (ভায়াডাক্ট) নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই উড়ালপথ কুমিল্লার গোমতী ও দাউদকান্দি নদী পার হয়ে বিস্তৃত হবে। সর্বাধুনিক এই রেলপথে কোনো লেভেল ক্রসিং রাখা হবে না, যার ফলে ট্রেনগুলো কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই উচ্চগতিতে চলাচল করতে পারবে। বিদেশি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগকারী সংস্থা এই প্রকল্পে অর্থায়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি রেলবহরে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটার গেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে চলছে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াই ও আন্দোলনের ফসল হিসেবে অবশেষে কুমিল্লা-ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপন হতে যাচ্ছে। বাজেটে এই কর্ড লাইন সরাসরি নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ায় কুমিল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। তিনি আরও জানান, এই রুট চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যাতায়াত এতটাই সহজ হবে যে কুমিল্লার বাসিন্দারা ঢাকায় অফিস করে সহজেই নিজ এলাকায় ফিরে আসতে পারবেন।
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম মনে করেন, এই কর্ড লাইন নির্মাণ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এছাড়া লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল অভিমত প্রকাশ করে বলেন, এই রেলপথ বাস্তবায়িত হলে শুধু কুমিল্লাবাসী নয়, বরং লাকসাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুর জেলার লাখ লাখ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। দ্রুত এই মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
