প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ শিবলী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদারনৈতিক মনোভাব নিয়ে মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার চেষ্টা করছেন। ধর্ম ও মতের কারণে দেশে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নতুন সদস্য বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবেন। এতে প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি একজন নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনো থামেনি, বরং বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা থেকে ঘৃণা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনা দেখা গেছে।
গত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্যের শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ছালেহ শিবলী।
সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করলে সেটিকে তিনি অন্যায়, অপরাধ বা অস্বাভাবিক কিছু মনে করেন না। কারণ, একজন সাংবাদিক সারাক্ষণ লেখাপড়া করেন, দেশ-বিদেশের খবর রাখেন এবং চারপাশের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে বিভিন্ন বিষয়, আদর্শ ও রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে তার মতামত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ছালেহ শিবলী বলেন, কোনো বিষয়ে নিজের জানা, শোনা বা বোঝা কিংবা ব্যক্তিগত পক্ষপাত যদি সত্য তুলে ধরতে বাধা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস তার নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য, গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় একটি সুসংগত আইন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের পর প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যেতে পারে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে নীতি-নৈতিকতা, আইনশৃঙ্খলা এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো থাকা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার সাধারণ মানুষের সুরক্ষায়ও সরকারের দায়িত্ব রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিদিন ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা যেতে পারে। এতে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে এবং গুজবের বিস্তার কমবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম। এ সময় ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
