নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে পারছেন না। এমনটাই দাবি করে ক্ষোভ উগরে দিলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কেশপুরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এ বারের দুর্গাপুজোয় তাঁর এলাকার কোনও মণ্ডপে যেতে না-পারার জন্য তীব্র যন্ত্রণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল পরিষদীয় দলের প্রতি নিজের অভিমান ব্যক্ত করেন কেশপুর বিধায়ক।
শিউলি বলেন, “নির্বাচন কমিশন তাঁকে জয়ের শংসাপত্র দিলেও, তার পর থেকে তিনি আর কেশপুরে স্বাধীনভাবে প্রবেশ করতে পারেননি।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কেশপুরে গেলে তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করে বার করে দেওয়া হয়েছিল।” পরবর্তী সময়ে আর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলেও ঠিক একই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। এই সমস্ত ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ কিংবা অন্য কোনও প্রশাসনিক স্তরে সাহায্য তিনি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিজেপির ২০৯ বিধায়ক ছাড়াও আরও ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর পক্ষে বিধানসভার অন্দরে হাত তুলতে প্রস্তুত। সেই মন্তব্যের পর ঋতব্রত শিবির চাপে পড়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতা না করলেও, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কেরা যে বিজেপি জমানায় কাজ করতে পারছেন না, তা তুলে ধরা হচ্ছে এ ভাবে।
গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম বার দুর্গাপুজোর সময় নিজের বিধানসভা এলাকায় কোনও মণ্ডপে প্রবেশ করতে না পারা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শিউলি । এই ‘মানসিক যন্ত্রণা’ আর সহ্য করতে না পেরে আজ তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বলে দাবি করেন। নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয়ার শ্রদ্ধা জানাতে তিনি যাবেন কি? জবাবে শিউলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যেখান থেকেই হোক না কেন দিদিকে প্রণাম ও বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী এবং এই সত্যের অন্যথা হওয়ার কোনও অবকাশ নেই।’’
