১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল ছুড়ে ব্যাটারদের চমকে দেওয়া নাহিদ রানা এখন নিজেই লড়ছেন এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে। নাম তার চোট। বাংলাদেশের ক্রিকেটে গতির নতুন এক পরিচয় তৈরি করেছিলেন নাহিদ রানা। অল্প সময়েই নিজের বোলিং সামর্থ্য দিয়ে নজর কেড়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আগ্রাসী বোলিং প্রতিপক্ষের জন্য যেমন অস্বস্তির কারণ, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও বড় শক্তি। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই চোট যেন তাঁর পথচলায় বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও আবারও থামতে হচ্ছে এই পেসারকে।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে নাহিদ। চোট কাটিয়ে ফেরার জন্য মিরপুরে নিয়মিত অনুশীলন করছিলেন। ধীরে ধীরে বোলিংয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত মাসের শেষ দিকে কোমরের নিচের অংশে নতুন করে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্ক্যান করানোর পর গুরুতর কিছু পাওয়া না গেলেও ব্যথা পুরোপুরি না কমায় বোলিংয়ে ফিরতে পারছেন না। পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
শুধু বিশ্রাম কিংবা সাধারণ পুনর্বাসনে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলেই এবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন নাহিদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল রাতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন তিনি। সেখানে আগামী সোমবার ডা. পিটার দি আলেসান্দ্রোর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের পর শুরু হবে ১০ দিনের বিশেষ রিহ্যাব সেশন। মূলত চোটের প্রকৃত অবস্থা বুঝে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই এই উদ্যোগ।
অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও নাহিদের সামনে থাকবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিসিবি সূত্রের খবর, দেশে ফিরে তিন থেকে চার সপ্তাহ নিজের ওয়ার্কলোড নিয়ে কাজ করতে হবে তাকে। শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বোলিংয়ের চাপ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিরে পেতে এই সময়টুকু গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা নেই। নাহিদের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ দলের অন্য পেসারদের সঙ্গে তার বড় পার্থক্য গতিতে। বিশেষ করে দ্রুতগতির বলের পাশাপাশি বাউন্স দিয়ে ব্যাটারদের চাপে রাখার সামর্থ্য তাকে আলাদা করেছে।
তবে বারবার চোটে পড়ার পর এবার নাহিদকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিসিবি। দ্রুত মাঠে ফেরার চেয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন শেষ হলে আগামী ডিসেম্বরে থ্রি ডি টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি সংস্করণ দিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন তিনি।
নাহিদের জন্য ডিসেম্বর তাই কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, দীর্ঘ বিরতির পর নিজেকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ। সেখানে বোলিংয়ে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কতটা চাপ নিতে পারেন-সেটিই হবে পরবর্তী পরিকল্পনার বড় পরীক্ষা। বাংলাদেশের ক্রিকেটও অপেক্ষায় থাকবে সেই পরিচিত গতির ঝলক দেখার। তবে এবার প্রত্যাশা একটাই, ফিরে এসে যেন আর চোটের কারণে থেমে যেতে না হয় এই তরুণ পেসারকে!
