কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনা যেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাদের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা, সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে। উপজেলার সিনেমা হল রোডে অবস্থিত তিন তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক সরকারি ভবনটি এখন রূপ নিয়েছে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির সম্মুখভাগ এবং মূল প্রবেশদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিজস্ব পরিচয়ের চেয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচারণাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। ভবনের মূল ফটকে ঝুলছে ‘প্রগতি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এবং উপরের তলায় ‘প্রগতি কিন্ডারগার্টেন স্কুল’-এর বিশাল সাইনবোর্ড। এমনকি ভবনের সীমানা প্রাচীরে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অগ্রিম ছাত্র ভর্তির বড় ব্যানারও টানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) বাস্তবায়নে সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে এই কমপ্লেক্সগুলো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল-স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসার স্থান, পারস্পরিক যোগাযোগের সমন্বয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং ভবনের নিচতলার দোকানগুলো ভাড়া দিয়ে প্রাপ্ত আয় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা।
তবে শৈলকুপার এই কমপ্লেক্সটির বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে এবং এর মূল গাম্ভীর্য ক্ষুণ্ণ করে পুরো ভবন বা এর সিংহভাগ অংশ একটি প্রাইভেট স্কুলকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মের কাছে এটি এখন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের চেয়ে একটি সাধারণ স্কুল হিসেবেই বেশি পরিচিতি পাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক জানান, সরকারি এত বড় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি স্থাপনা এভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত লাভজনক স্কুলের কাছে ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে ভবনের মূল সৌন্দর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। অনেক সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাও কমপ্লেক্সের এই বাণিজ্যিক রূপ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারের (যিনি বর্তমানে ইউএনও বা স্থানীয় প্রশাসক) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রুপালী বাংলাদেশকে জানান, কমপ্লেক্সটি ভাড়া দেওয়ার ব্যপারে আমি অবগত আছি, তবে ভাড়াটিয়া স্কুল কর্তৃপক্ষের বিশাল সাইনবোর্ড, পুরো মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্সটি ঢেকে ফেলেছে বা নিশ্বপ্রাণ করে ফেলেছে এটি তারা ঠিক করেনি, এ ব্যাপারে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
নীতিমালার বাইরে গিয়ে কীভাবে একটি সম্পূর্ণ কমপ্লেক্সকে ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুলে রূপান্তর করা হলো, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
