দেশে একক মালিকানাধীন কোম্পানি বা ওয়ান পারসন কোম্পানি (ওপিসি) নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ধরনের ৮১৮টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩৫ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিবন্ধিত হয়েছে আরও ৩৭৬টি কোম্পানি। তবে, ন্যূনতম ২৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই এ কাঠামোর বাইরে থাকছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সহজ করা, অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ওপিসি চালু করা হয়। কিন্তু উচ্চ মূলধনের শর্ত ও প্রশাসনিক জটিলতা এ উদ্যোগের সম্ভাবনাকে সীমিত করছে।
যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২৪টি ওপিসি নিবন্ধিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪০টি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৩৯টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪৪টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে ৮১৮টিতে দাঁড়ায়।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৩৭৬টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে। এই তিন মাসের নিবন্ধন সংখ্যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো বছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ওপিসি নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪১টিতে।
মূলধনের শর্ত বড় বাধা
আরজেএসসির এক কর্মকর্তা বলেন, ওপিসি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা। একাধিক মালিকের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনে এ ধরনের ন্যূনতম মূলধনের বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু একক মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, মূলধনের এই অসামঞ্জস্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও একক প্রতিষ্ঠাতাদের ওপিসি গঠনে নিরুৎসাহিত করছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধকের কার্যালয় ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগেও জটিলতা
ওপিসি চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে ব্যাংক হিসাব খোলা, মূলধনের অর্থ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহের মতো প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলধনের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ওপিসি-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তা না হলে নিবন্ধন বাড়লেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে এ কাঠামোর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।
