Published on
:
1 min read
এই সময়, কাটোয়া: সপ্তমীর রাতে তিন মাসের শিশুপুত্রকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার পরে ‘সন্তান চুরি গিয়েছে’ বলে নাটকের সাজানো গল্প ফাঁদলেন মা। মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলকোটের পূর্ব গোপালপুরে। শনিবার রাতেই স্থানীয় পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু অঙ্কিতের দেহ। খুনের অভিযোগে ধৃত মা মামনি দাস ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ধৃতের শ্বশুরবাড়ি মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে। তাঁর স্বামী অঞ্জন ঘোষ মূক ও বধির। প্রথম সপ্তমীর দিন অনামিকা ঘোষ তাঁর পুত্রবধূ মামনি ও তিন মাসের নাতি অঙ্কিতকে নিয়ে পূর্ব গোপালপুরে মামাবাড়িতে পুজো দেখতে যান। রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে শিশুটিকে নিয়ে তার ঠাকুমা ঘুমাতে যান। রাত ১২টা নাগাদ মামনি হঠাৎ চিৎকার করে দাবি করেন যে, তাঁর সন্তানকে কেউ চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। ঠাকুমা ও প্রতিবেশীরা খুঁজতে বেরোলে মামনি নিজেই তাঁদের পুকুরের দিকে খুঁজতে বলেন। সেখানে যেতেই দেখা যায় শিশুটির নিথর দেহ জলে ভাসছে। মামনির অসঙ্গতিপূর্ণ কথা ও গতিবিধিতে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁকে চেপে ধরতেই পুলিশের কাছে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। মৃত শিশুর দাদু অভিজিৎ ঘোষ বৌমার বিরুদ্ধে মঙ্গলকোট থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
২০২৫-এর ৭ এপ্রিল ঘটকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের মামনির সঙ্গে অঞ্জনের বিয়ে হয়। মামনি বিবাহিত ও ছ’বছরের এক সন্তানের মা— এই তথ্য গোপন থাকলেও পরে অঞ্জনরা তাঁকে মেনে নেন। এর আগেও বাড়িতে না জানিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ রয়েছে মামনির বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ধৃতের কাকা কাঞ্চন ঘোষ বলেন, ‘আমরা চাই ওর কঠিন সাজা হোক।’ কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
