টানা ৫ দিনের ছুটিতেও চাপ নেই এটিএম বুথে
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি চলছে। তবে দীর্ঘ এই ছুটিতেও রাজধানীতে ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের তেমন কোনো ভিড় বা চাপ দেখা যায়নি। অতীতে এ রকম ছুটির দিনগুলোতে বুথে দীর্ঘ লাইন, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা নগদ অর্থের সংকট দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনার ফলে বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, যাত্রাবাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীদের টাকা তুলতে কিছু ব্যাংকের বাধা রয়েছে। কিছু ব্যাংকের বুথে তাদের গ্রাহক ছাড়া অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরা টাকা তুলতে পারছেন না। আবার কিছু ব্যাংকের বুথে রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছেন অন্য ব্যাংকের কার্ডধারীরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটা করা হয়েছে যাতে করে এক ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। কারণ যে এলাকার বুথ সেই এলাকায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা এবং গ্রাহকদের চাহিদার আলোকে ব্যাংকগুলো টাকা রাখে।
রাজধানীর ব্যাংকপাড়াখ্যাত মতিঝিলের দিলকুশা এলাকার যমুনা ব্যাংকের বুথের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্যান্য দিনে অনেক স্যার (গ্রাহক) টাকা তুলতে আসেন। ছুটি চলায় এখন তাদের সংখ্যা কমেছে।
দিলকুশার পপুলার ভবনের ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, ছুটি হওয়ায় গ্রাহক কম। দিনে ৭ থেকে ৮ জন আসেন। বুথে পর্যাপ্ত টাকা আছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহিদ ফারুক রোডের সাউথইস্ট ব্যাংক, যমুনা, ইউসিবি, সিটি, ডাচ-বাংলা ও ঢাকা ব্যাংকের এটিএম বুথে গ্রাহকদের উপস্থিতিও তেমন একটা দেখা যায়নি।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ ইনচার্জ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের ছুটিগুলোতে বুথে অনেক চাপ থাকত। তবে এবার তেমন চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। আমাদের এখানে অর্থের কোনো সমস্যা নেই।’
যাত্রাবাড়ী মোড়ের ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তুললেন ফজলুল হক। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের অনেক ছুটিতে দেখেছি বুথে দীর্ঘ লাইন। এবারে সেটা হয়নি। ক্লিনিকে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেছেন। এর জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন ছিল, তা উঠিয়ে নিলাম। আমরা গ্রাহক হিসেবে এমন সেবাই চাইব। দীর্ঘ লাইন দিয়ে টাকা তুলতে হবে কেন? আবার বুথে টাকা না থাকলে সেটা অনেক কষ্টের এবং বিড়ম্বনার।’
পূজার ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটির সময়ে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখা এবং মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি বুথগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
মতিঝিলের শরীফ ম্যানশন ভবনের ওয়ান ব্যাংক, সেনা কল্যাণ বিজনেস সেন্টারের ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ এবং ডিসিসিআই ভবনের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বুথে গতকাল বিকেলে গিয়ে কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি।
পুরানা পল্টনের ইব্রাহীম ম্যানশনের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তোলেন জহির হোসেন নামের এক গ্রাহক। তিনি বলেন, ‘এবারের ছুটিতে বুথ থেকে আমাকে দুই দিন টাকা তুলতে হয়েছে। তবে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। আগে অনেক ছুটিতে বুথ থেকে টাকা তুলতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।’
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে বলা হয়, ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহকের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যবহারকারী ১৯ লাখ।
একটা সময় শুধু শহরের মধ্যেই এটিএম বুথের সেবা পাওয়া যেত। এখন দেশের আনাচে-কানাচে এমনকি গ্রামীণ হাটবাজারের অলিগলিতেও এটিএম বুথের সেবা পৌঁছে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকগুলো তাদের সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে এটিএম বুথের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেশব্যাপী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট এটিএম বুথের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮২৯টি। বুথ সবচেয়ে বেশি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। এরপর রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের।
আরও পড়ুন
ফাঁকা রাজধানীর রাস্তাঘাট, ছুটির প্রভাব বাজারে
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দুর্গাপূজায় পাঁচ দিনের ছুটিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে গেছেন। রাজধানীর ঢাকার রাস্তাঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা। ছুটির প্রভাব পড়েছে বাজারগুলোতেও। অধিকাংশ বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পাইকারি থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়েও বেচা-কেনা কমে গেছে। কারও কারও তা অর্ধেকে নেমে গেছে। সবজি পচনশীল পণ্য হওয়ায় বিক্রেতারা আটকে রাখতে পারছেন না। চাহিদা কমে যাওয়ায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে ছোলা, বুটের ডাল ও অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। মাংস, ডিম, মাছ আগের মতো উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অনেক জিনিসের দাম আগেই বেড়ে গেছে। তাই বেচা-কেনা কমলেও এসব পণ্য কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি চলছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে গতকাল দুপুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে মুদির দোকানেও ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক কম। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে অনেক বিক্রেতা দোকানে বসে আছেন।
বিক্রির ব্যাপারে জানতে চাইলে এই বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আলমগীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘পূজার ছুটি চলছে, লম্বা ছুটি। অনেকেই বাড়ি গেছেন। পরিচিত কাস্টমার (ক্রেতা) দেখা যাচ্ছে না। এ জন্য বেচা-কেনা নেই। তাই দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। কয়েক দিন আগে তাল বেগুন (গোল) ১৬০ টাকা কেজি, সবুজ গোল বেগুন ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে এসব বেগুন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ১৪০-১৬০ টাকার শিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে সব সবজি কমদামে বিক্রি করা হচ্ছে। কাঁচা সবজি ধরে রাখা যায় না। চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমেছে।’ এই বাজারের অন্য বিক্রেতারাও জানান, গাজর ১২০-১৪০ টাকা কেজি, শসা ৭০-১০০, ঝিঙে, ধুন্দল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০, পটোল ৬০-৮০, কাঁচা পেঁপে ২০-৩০, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা পিস, লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এসব সবজি কারওয়ান বাজারে আরও কিছু কম দাম বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, কাছেই পাইকারি বাজার, সেখান থেকে কেনা। তাই অন্য বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে এক সবজির দোকানে মো. মনির হোসেন নামে এক ক্রেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘পটোল, বেগুনসহ আরও কয়েক পদের সবজি কিনলাম, তা আগের তুলনায় কম দামে কিনলাম। ক্রেতা কম। এ জন্য হয়তো দাম কমেছে।’
উচ্চ মূল্যেই ডিম মাছ মাংস বিক্রি
পূজার লম্বা ছুটিতে চাহিদা কমলেও যেসব পণ্য পচনশীল নয়, সেসবের দাম কমেনি। ডিমের বাজারে নেই স্বস্তি। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে ১৫০-১৬০ টাকা ডজন ও ৪৮-৫৪ টাকা হালি ডিম বিক্রি হয়। গত সপ্তাহের মতো গতকালও ব্রয়লার ১৮০-২০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩১০-৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশি মুরগির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমে ৫৫০-৫৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. রুহুল কুদ্দুস খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে দাম উঠা-নামা করলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মুরগির বাজার চড়ে গেছে। আর কমে না। বাড়তি দর স্থির হয়ে গেছে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে।’ নিউ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান।
ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অন্য মাছও চড়া দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ‘গরিবের পাঙাশ’ও ২৮০-৩০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ২৮০-৩২০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া রুই, কাতলার কেজি ৩৬০-৫৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-৯০০, পাবদা ৪০০-৬০০, চিংড়ি ৭০০-১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গতকালও মানভেদে পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা কেজি, আলু ২৫-৪০ টাকা, রসুন ১৫০-১৮০, আদা ১৪০-১৯০, চিনি ১১০ টাকা, বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা কেজি, মাঝারি দানার ডাল ১৩৫ ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোলা, বুটের ডাল ও অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
পাইকারি বাজারেও এসব ডালের দাম বেড়েছে। তবে বিক্রি কমেছে। এ ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স সিটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু তাহের খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতেই ৯৪ টাকার ছোলা ১০২ টাকা হয়ে গেছে। এভাবে ৯৮ টাকার বুটের ডাল ১১০ টাকা, ৪৪ টাকা দরের অ্যাংকর ডাল ৫৮ টাকা হয়ে গেছে। পামঅয়েলের দামও বেড়েছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় বিক্রি একেবারে কমে গেছে।’
বিক্রি কমছে কেন? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সব কিছুর দাম বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে দাম। টাকা থাকছে না। এ জন্য মানুষ কম কিনছেন।’
আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে সরু (মিনিকেট) চাল ৭৫-৮৫ টাকা কেজি, মাঝারি চাল ৫৫-৬০, মোটা চাল ৫০-৫২ টাকা, পোলাওয়ের চাল ১৮০-২০০ টাকা ও প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নতুন ধান না উঠলে চালের দাম আর কমবে না।
আরও পড়ুন
আজ থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে ব্যাংকের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেন। ফলে এ সময়ে ব্যাংকিং সেবা ও শেয়ার কেনাবেচায় বিরতি থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ছুটির আগে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছিল। ওই দিন সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দুর্গাপূজার ছুটিতে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় একই সময়ে দেশের দুই শেয়ারবাজারেও লেনদেন হবে না। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
বিধিমালার গেজেট প্রকাশ আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খবরের কাগজ গাফিক্স
-->প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে বড় কোম্পানি। এ জন্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানির অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। পাশাপাশি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কমে ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের শর্ত রাখা হয়েছে।
এ সুযোগ তৈরি করে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৩ অক্টোবর বিধিমালাটি জারি করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়েছে। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিধিমালাটি কার্যকর হয়েছে। গতকাল সোমবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন বিধিমালায় সরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্পগোষ্ঠী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ জন্য কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা, আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জন এবং সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসির ১০২৭তম কমিশন সভায় চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে বিধিমালার খসড়া অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে খসড়াটির ওপর সাধারণ বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্থতাকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কাছ থেকে লিখিত মতামত নেয় কমিশন। মতামত প্রদানের সর্বশেষ সময় ছিল ১৫ নভেম্বর। সবার মতামতের ভিত্তিতে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। কোম্পানিটির বার্ষিক টার্নওভার বা বিক্রয় আয় অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ বা অন্তত ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং সম্পূর্ণ বা অন্তত ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানা অন্তত ১০ শতাংশ রয়েছে, এমন কোম্পানিও যোগ্যতার আওতায় আসবে।
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী নিট সম্পদ অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হতে হবে। এ ছাড়া বিএসইসি নির্ধারিত অন্য কোম্পানিকেও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া যাবে।
নতুন বিধিমালায় শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিকে মার্চেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে পরামর্শ করে শেয়ারের একটি রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এ মূল্যায়নে অন্তত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে একটি পরম মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং অন্যটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হতে হবে। কোম্পানির ব্যবসার ধরন ও খাত বিবেচনায় মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে এবং তা নির্বাচনের যৌক্তিকতা প্রকাশ করতে হবে।
রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণের পর শেয়ার বিক্রির ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্য বা ‘মিনিমাম আস্কিং প্রাইজ’ ওই মূল্যের অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানির রেফারেন্স মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারিত হলে ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্য ৭৫ টাকা বা তার কম হতে হবে। তবে এটি শেয়ারের চূড়ান্ত বাজারদর নয়। প্রথম দিনের মূল্য আবিষ্কার পর্বে বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাজারদর নির্ধারিত হবে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এ মালিকানা পরবর্তী সময়েও বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিক্রির জন্য নির্ধারিত মোট শেয়ারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কিনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ প্রথম লেনদেন দিবস থেকে ৩০ লেনদেন দিবসের মধ্যে বিক্রি করতে হবে।
প্রথম দিন শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে দুই ঘণ্টার মূল্য আবিষ্কার পর্ব থাকবে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীরা ক্রয়াদেশ দিতে পারবেন, তবে বিক্রেতারা কোনো বিক্রয়াদেশ দিতে পারবেন না। ন্যূনতম প্রস্তাব মূল্যের নিচে কোনো ক্রয়াদেশ গ্রহণ করা হবে না। মূল্য আবিষ্কার পর্ব শেষে বিক্রেতারা বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম দরে শেয়ার বিক্রির আদেশ দিতে পারবেন। প্রথম দিন শেয়ারের ওপর কোনো সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে না।
এ ছাড়া প্রথম দুই লেনদেন দিবসে একক আদেশে ১০০টির কম বা ১ হাজারের বেশি শেয়ার কেনার আদেশ গ্রহণ করা হবে না। সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা ওই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন না। আর তালিকাভুক্তির সময় হাতে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিধিনিষেধ থাকবে।
বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্তির আবেদন করতে ১ লাখ টাকা ফি দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জকে কোনো ঘাটতি থাকলে তা জানাতে হবে। সব শর্ত পূরণের পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদিত তথ্য বিবরণী প্রথম লেনদেন শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রকাশ করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১৫ সালের তালিকাভুক্তি প্রবিধানমালায় থাকা ডিরেক্ট লিস্টিংসংক্রান্ত ৮ থেকে ১৩ নম্বর প্রবিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এখন থেকে নতুন বিধিমালার শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন
জয়পুরহাটে চিনি চাম্পা কলার দামে ধস, বিপাকে কৃষকরা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম
জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাটে প্রচুর চিনি চাম্পা কলার আমদানি হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->লাভের আশায় জয়পুরহাটে এবার ব্যাপক জমিতে কলার চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু হঠাৎ করে হাটে চিনি চাম্পা কলার দাম অর্ধেকে নেমে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। কলা বিক্রি করে উৎপাদন খরচও না ওঠায় চোখে-মুখে চিন্তার ভাঁজ তাদের মুখে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চিনি চাম্পা কলার দাম কমেছে। আর চাষিদের বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, ধান ও আলুর চেয়ে কলা চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় জয়পুরহাটে দিন দিন বাড়ছে এই চাষ। এই কলা বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল কলার হাট। এ হাটে শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে প্রায় কোটি টাকার কলা কেনাবেচা। এ হাটে বিক্রি হয় অনুপাম, সাগর ও চিনি চাম্পা। জয়পুরহাট ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও এখানে কলা বিক্রি করতে আসেন কৃষকরা। বর্তমান এখানে প্রচুর পরিমাণ চিনি চাম্পা কলার আমদানি হয়েছে।
এখানকার কলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক কলা সরবরাহ হচ্ছে। তবে এই কলার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকলেও হাসি নেই চিনি চাম্পা কলাচাষিদের। অন্যান্য কলার দাম ভালো থাকলেও হঠাৎ করে চিনি চাম্পা কলার দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই কলা প্রতি কাইন (ঘাউর) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর অনুপম কলার দাম স্বাভাবিক রয়েছে, তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
হঠাৎ করে চিনি চাম্পা কলার দাম এমন কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। এদিকে এই হাটে জায়গাসংকটের কারণে কলা বেচাকেনায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। এ ছাড়া হাটটি সড়কসংলগ্ন হওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে কলা তোলা হয় ট্রাকে। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। কলার ন্যায্যমূল্যসহ হাটের জায়গা বড় করার দাবি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।
সদরের মাঝিপাড়া গ্রামের কৃষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘চিনি চাম্পা কলার দাম কয়েক দিন আগেও ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা ঘাউর (কাইন) বিক্রি হয়েছে। এখন সেই কলার দাম অর্ধেক কমে গেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ঘাউর বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন খরচই উঠবে না।’
চকমোহন গ্রামের কৃষক মনজুরুল হোসেন বলেন, ‘চিনি চাম্পা কলা বিক্রি করে কোনো লাভ হচ্ছে না। সার-কীটনাশকের দাম বেশি। এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আর বর্তমানে কলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্য বছর এক বিঘা জমিতে ১ লাখ টাকার কলা বিক্রি হয়েছে। এবার কলার আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কম। সরকারের কাছে অনুরোধ–এই কলার দাম যেন বাড়ানো হয়।’
ঝিনাইদহের কলা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘সারা দেশে চিনি চাম্পা কলার প্রচুর আমদানি হয়েছে। এ জন্য দাম কম। আমরা এ হাট থেকে কলা কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাটের জায়গা ছোট। হাটের এক পাশে সড়ক, আরেক পাশে ইউনিয়ন পরিষদ। এ কারণে কলা কিনে রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। হাটটি বড় করা হলে সবার জন্য ভালো হবে।’
কুমিল্লার ব্যবসায়ী সামাদ গাজী বলেন, ‘কলার দাম কমে যাওয়ার কারণ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনি চাম্পা কলা উঠতে শুরু করেছে। আমদানি বেশি হলে দাম তো কম হবেই। প্রতিদিন এ হাট থেকে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক কলা সারা দেশে সরবরাহ হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ হাটের জায়গা অনেক ছোট।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার বলেন, জয়পুরহাট জেলায় এবার ৭১৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হেক্টর কলা নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির কলা উত্তোলন হয়েছে। কলা চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গাদহ কলার হাটটি সম্প্রসারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কলা বিপণন সহজ হবে।
