October 14, 2026, 2:53 am
প্রণোদনার ঋণে প্রাণ ফেরেনি
Reporter Name
- Update Time : Wednesday, October 14, 2026
- 12 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: করোনা মহামারী ও অন্যান্য সংকটের ধাক্কা সামলে বন্ধ কারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে থাকা ৬২ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে মারাত্মক শ্লথগতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ পৌঁছায়নি প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহৎ এই তহবিলের একটি বড় অংশ এখনও ব্যাংকগুলোর ভাণ্ডারেই আটকে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজ চালুর পর প্রথম চার মাসে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় চিত্র দেখা গেছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য নির্ধারিত তহবিলে, যেখান থেকে নামমাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সামগ্রিক এই প্যাকেজ থেকে সরাসরি উদ্যোক্তাদের হাতে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকারও নিচে নেমে এসেছে। অথচ এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তত পঁচিশ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল নীতিনির্ধারকেরা।
ঋণ বিতরণে এমন স্থবিরতার জন্য ব্যবসায়ী সমাজ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দায়ী করছে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো নানা অজুহাতে অর্থ ছাড় করতে চায় না এবং মাত্রাতিরিক্ত জামানত দাবি করে। অন্যদিকে ব্যাংকারদের দাবি, খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ, পর্যাপ্ত জামানতের ঘাটতি এবং আবেদনকারীদের অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণেই মূলত ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে ঋণের বর্তমান শর্তগুলো শিথিল করার পাশাপাশি সুদের হার আরও কমানোর নানা কৌশল খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
উদ্যোক্তারা বলছেন, পুরোনো কোনো রিট বা মামলা চলমান থাকলে প্রণোদনার আবেদন করার আগে তা প্রত্যাহারের কঠোর শর্তই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যাংকিং খাতের জটিল নীতিমালা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি ভিন্ন সার্কুলারের নির্দেশনার অসংগতির কারণেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমতাবস্থায়, ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে এবং শর্ত সহজ করে দ্রুত ঋণ ছাড়ের ব্যবস্থা না করলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


