প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, পারমাণবিক ও অর্থনীতিসহ চারটি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ ঘোষণা দিয়েছিল ন্যাটো মিত্র কানাডা ও তুরস্ক। এখন সেটিকেই চুক্তিতে রূপ দিতে যাচ্ছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আসন্ন তুরস্ক সফরে এ চুক্তি সই হতে পারে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
এ চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সহযোগিতার প্রতিটি খাতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
কার্নি হবেন প্রথম কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি তুরস্কে বিশেষভাবে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তুরস্কের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমানো এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সফর করছেন কার্নি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্ষতিকর বাণিজ্যযুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে অটোয়া। ট্রাম্প একাধিকবার কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার কানাডা সরকারের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সফরকালে ঠিক কী কী ঘোষণা, চুক্তি বা সমঝোতা সই হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
কানাডা সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন কার্নি।
শুক্রবার তুরস্কের বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্য হবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করা। কানাডার আগ্রহের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ও মহাকাশ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, উচ্চপ্রযুক্তি এবং কৃষি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রী আল্প আরসালান বায়রাকতার গত রোববার কানাল ৭ টেলিভিশনকে বলেন, কার্নির সফরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় কানাডা থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ কেনার সম্ভাবনাও উঠে আসতে পারে।
তুরস্কের কৃষ্ণসাগর উপকূলে পরিকল্পিত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কানাডার কোম্পানি ক্যান্ডুর প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা যাচাই করতে একটি কর্মদল গঠনের কথা রয়েছে।
তুরস্ক এ প্রকল্প এবং দেশটির পরিকল্পিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে কানাডার প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান অ্যাটকিন্সরিয়ালিস যার মালিকানায় ক্যান্ডু রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন এবং চীনের স্টেট পাওয়ার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম তুরস্কের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।
প্রতিরক্ষা খাতে আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে ড্রোন ও নৌ-সহযোগিতা। ২০২৪ সালে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্কে অস্ত্র রপ্তানির ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয় কানাডা। এসব নিয়ন্ত্রণের আওতায় ড্রোনে ব্যবহৃত অপটিক্যাল প্রযুক্তিও ছিল। তুরস্ক কয়েক ডজন দেশে ড্রোন রপ্তানি করে।
পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা কোম্পানি এবং জ্বালানি খাতে ব্যবসা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন কার্নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চালিক হোল্ডিং ও সাবানজি হোল্ডিং। সাবানজি হোল্ডিং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চালিক হোল্ডিং তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সূত্র : রয়টার্স
