এ ভারত বিবিধের মাঝে মহান মিলনের দেশ। সেই মিলন জাতি-ধর্ম-বর্ণের পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিরও। দেশের বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধনই আসলে উৎসবের প্রকৃত রূপ। সেই রূপ এবার মেলে ধরছে কলকাতার এক পুজো কমিটি। পঞ্চম বর্ষে তাদের এবারের ভাবনায় ‘পাঁচে পঞ্চবাণ’। ছত্তিশগড়ের বিশিষ্ট সংস্কৃতি ‘পাণ্ডবানি’কে সম্মান জানিয়ে থিমের পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। এই ‘পাণ্ডবানি’ শিল্পেই নিজের প্রতিভা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রয়াত খ্যাতনামা শিল্পী তিজন বাঈ। তাঁকেও স্মরণ করা হবে এবারের দুর্গাপুজোয়। সবমিলিয়ে, কলকাতার নামীদামি পুজোগুলির চেয়ে নিজেদের ভাবনার স্বকীয়তায় বেশ আকর্ষণীয়ভাবে পুজোর আয়োজন করতে চলেছেন বিভাস মুখোপাধ্যায় অ্যান্ড কোং।
এবার এই পুজোর ভাবনা – ‘নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান…’। এর এই মহান মিলনের মন্ত্র সামনে রেখে ছত্তিশগড়ের ‘পাণ্ডবানি’ শিল্পকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাংলার দুর্গোৎসবে। সামগ্রিক ভাবনাটি সংগঠনের সদস্য বিভাস মুখোপাধ্যায়ের। শিল্পের আঙ্গিকে এই ভাবনা রূপায়ণের দায়িত্ব নিয়েছেন বিখ্যাত প্রতিমাশিল্পী সনাতন পাল। তাঁর হাত ধরে তৈরি হয়েছে মৃন্ময়ী প্রতিমা। ‘পাণ্ডবানি’ আসলে লোকসঙ্গীতের আদলে মহাভারতের বিভিন্ন অংশের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ করা। আর সেই কাজটি সুনিপুণভাবে করে গিয়েছেন তিজন বাঈ। তাঁর হাত ধরে ছত্তিশগড় ছাড়াও মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশে জনপ্রিয় হয় এই শিল্প। এর সঙ্গে আজীবন সম্পৃক্ত থাকতে তিজন বাঈয়ের বহু ত্যাগ রয়েছে। চলতি বছরই তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাই তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোও এই পুজোর অন্যতম উদ্দেশ্য।

ইতিমধ্যে মণ্ডপসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ঝলকেই বেশ আকর্ষণীয় লাগছে। বীণা, সেতার, সরোদ, মৃদঙ্গ-সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে সুসজ্জিত মণ্ডপ। অর্থাৎ ‘পাণ্ডবানি’ শিল্পের বিবিধ উপকরণে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। তার মাঝে মাঝে মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্র আঁকা। সবমিলিয়ে মঞ্চের একটি সেট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে কলকাতার এই পুজোমণ্ডপটি। উদ্যোক্তাদের আশা, এবার তাঁদের পুজো দেখতে গিয়ে ভারতের এই প্রাচীন, অনালোকিত শিল্পকলা সম্পর্কে নতুন ধারণা করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
