কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট :
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৪৭

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং অর্থের জোগানদাতা তাঁর ছোট ভাই আলমগীর শিকদার। আজ শনিবার বিকেলে মিঠামইনের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিহত জাহাঙ্গীরের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার।
তাসলিমা আক্তারের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি হেলাল কারাগার থেকে ফোন করে তাঁকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাসলিমার অভিযোগ, আসামি হেলালকে রিমান্ডে নেওয়ার পর আলমগীরের নাম বলায় তাঁকে মারধর ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার। যে কারণে তিনি বাধ্য হয়ে ১৬৪ ধারায় আলমগীরের নাম বলেননি। ওসি মনোয়ারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা আক্তার বলেন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা খোকাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পর বাদীকে দেখার সুযোগ না দিয়ে আলমগীর শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো কেন? তা ছাড়া মামলার শুরুতে আলমগীর শিকদারের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে দেশ থেকে পালাতে পাসপোর্ট দিয়ে সাহায্য করা হলো কেন?
তাসলিমা আক্তারের দাবি, হত্যা মামলাটি মিঠামইন থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করার পর থেকেই আলমগীর শিকদার পলাতক। প্রশাসন যেন অতি দ্রুত তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করে। তাঁকে দেশত্যাগে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ সহায়তা করে থাকলে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
তাসলিমা বলেন, ‘মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমার স্বামী জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আলমগীর তাঁকে খুন করতে পারেন এবং সে আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। ওই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই সাব্বির। হত্যাকাণ্ডের পরদিন সাব্বিরকে কেন তাড়াহুড়ো করে বদলি করা হয়, সে জবাব চাই।’
নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে বাচ্চু প্রধান অভিযুক্ত। খুনি ভাড়া করা, খুনিদের লালন-পালন করা এবং তাঁদের থাকার জন্য বাসা ভাড়া নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাচ্চুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাচ্চুকে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
তাসলিমা আক্তার আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আমি মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তরের আবেদন করেছি। আমি দ্রুত এই মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের আওতায় আসে।’
এ সময় নিহত জাহাঙ্গীরের বড় বোন নাদিরা পারভীন অভিযোগ করেন, ‘আমরা যেন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি, সে জন্য আলমগীর আমাদের ভাইবোনকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর বলেন, ‘এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন।’
ফোনালাপে প্রকৃতপক্ষে আসামি হেলাল ও বাদী তাসলিমা ছিলেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন। তিনি এই ফোনালাপকে এআই নির্মিত বলে সন্দেহ করছেন। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফোনালাপের বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহ হচ্ছে। তবে বাদীপক্ষের উচিত হয়নি এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা। এটি পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এটা তদন্ত করে দেখব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে আমরা লিখিত দেব। ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।’

