ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে (৪০) মারধরের পর তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীরে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটানোরও অভিযোগ উঠেছে। মাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলেও মারধরের শিকার হন। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা হলেও গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নির্যাতনের শিকার ওই নারী ও করতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী ইজিবাইকচালক এবং তাদের ছেলে পাশের বাজারের একটি সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করেন।
ওই নারী জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তার স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের রসিদ তাদের বাড়িতে এসে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাকে সতর্ক করে ওই ব্যক্তি বলেন, ভালো হয়ে যাও, না হলে বিপদে পড়বে।
ওই নারী অভিযোগ অস্বীকার করলে আরও চারজন বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে দাবি করেন তিনি। তাদের মধ্যে একজন আনোয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলে তার চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় তার পরনের কাপড়ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেন, আনোয়ারের স্ত্রী তার ব্যাগ থেকে কাঁচি বের করেন। অন্যরা তাকে ধরে রাখলে তিনি তার মাথার চুল কেটে দেন। পরে ব্যাগ থেকে বড় একটি প্যাকেট বের করে তার শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে তারা চলে যান।
ভুক্তভোাগী ওই নারী জানান, রাতে তার স্বামী বাড়িতে ফিরলে তিনি ঘটনাটি জানান। পরে তারা ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার সময় মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হন ছেলে। তিনি বলেন, আমি ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম।
মায়ের কান্নার শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি কয়েকজন লোক মায়ের শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এভাবে বাড়িতে ঢুকে একজন নারীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানোর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে থাকেন না। তিনি শহরে থাকেন এবং গ্রামেও তেমন আসেন না। এ বিষয়ে রসিদ, আনোয়ার ও তার স্ত্রীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা ফোন ধরেননি। তাদের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।
