কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই জল্পনার মধ্যেই এবার নতুন মোড় ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর-পর্বে। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে, উৎসবের মরশুমেই নতুন বিনিয়োগকারী পেতে চলেছে লাল-হলুদ। সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিনিয়োগকারী হিসাবে উঠে আসছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) নাম। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও চুক্তি সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণা হতে পারে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া বাঁধা হলে ক্লাবের আর্থিক ভিত আরও মজবুত হতে পারে। শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপ (টিসিজি) এই সংস্থার প্রধান উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, সংস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও অংশীদারি রয়েছে। ফলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হলে আগামী দিনের পরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে মশাল ব্রিগেড।
গত ২৫ আগস্ট বিবৃতি দিয়ে ইমামি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসাবে তাদের ভূমিকা শেষ হচ্ছে। গত আইএসএল মরশুমের পর থেকেই ইমামির সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্যের কথাও শোনা গিয়েছিল। তার পর থেকেই লাল-হলুদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। চলতি মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না থাকায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল। যদিও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে লাল-হলুদের জার্সিতে ছোট করে ফিরে আসে ইমামির লোগো। ওই ম্যাচের আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে গেলেও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চাইছে না সংস্থাটি। পরে এ বিষয়ে বিবৃতিও দেয় ইমামি।
সংস্থার তরফে জানানো হয়, ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগকারী হিসাবে তাদের সমস্ত ভূমিকা শেষ হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে স্পনসর হিসাবে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বিবৃতিতে ইমামি জানায়, ‘বিনিয়োগকারী ও পরিচালন দায়িত্ব থেকে সরে এলেও স্পনসর হিসাবে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গেই থাকছে ইমামি গোষ্ঠী। খেলাধুলোর ক্ষেত্রে ক্লাবের পাশেই থাকব আমরা।’

ইমামির বিদায়ের পর লাল-হলুদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফুটবলারদের বেতন বকেয়া থাকার খবরও প্রকাশ্যে আসে। নতুন বিনিয়োগকারী না পাওয়া পর্যন্ত দল গঠন এবং মরশুমের খরচ সামলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই জায়গা থেকেই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসা তাৎপর্যপূর্ণ। সব কিছু চূড়ান্ত হলে আইএসএলের মরশুমের শুরুতেই আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে ইস্টবেঙ্গল। হাবাস বাহিনী তখন নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোরও সুযোগ থাকবে। তবে নতুন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তির শর্ত কী হবে, ক্লাব পরিচালনায় তাদের ভূমিকা কতটা থাকবে বা দল গঠনে কতটা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
