Published on
:
2 min read
খুশকি সারা বছরের সঙ্গী। সময় বিশেষে তার ধরন কখনও কখনও বদলে যায়। স্ক্যাল্প সোরিয়াসিসের সমস্যায় যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন, তেল-শ্যাম্পু নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁদের বিস্তর গবেষণা চলেছে। অনেকেই হয়তো বাজারচলতি ‘কোল-টার’ শ্যাম্পুর নামও শুনেছেন। সাধারণ অ্যান্টি-ড্যানড্রফ শ্যাম্পু কাজ না করলে এই গাঢ় রঙের শ্যাম্পুটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে এর তীব্র গন্ধ ও রাসায়নিক উপাদানের কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে এটি কি আদৌ নিরাপদ? চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, ‘কোল-টার’ এই ধরনের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। যেটি খুশকি, সেবোবরিক ডার্মাটাইটিস এবং সোরিয়াসিস নিরাময়ে সাহায্য করে।
এর কাজ কী?
‘কোল-টার’ মাথার ত্বকের কোষের দ্রুত বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যার ফলে স্ক্যাল্পে জন্ম নেওয়া ফ্লেক অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা স্ক্যাল্পে চুলকানি, জ্বালা ও লালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও মাথার ত্বকে মৃত কোষ জমতে বাধা দেয় এই ‘কোল-টার’ শ্যাম্পু, ফলে স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে।
‘কোল-টার’ ব্যবহারে চুলের ক্ষতি হতে পারে?
নির্দেশিকা মেনে ব্যবহার করলে ‘কোল-টার’ শ্যাম্পু সাধারণত বেশিরভাগ মানুষের জন্যই নিরাপদ। তবে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, সাময়িক অস্বস্তি হওয়া বা রোদ লেগে স্ক্যাল্পে জ্বালার অনুভূতি (ফটোসেন্সিটিভিটি) হতে পারে।
অনেকের মনেই ধারণা রয়েছে যে ‘কোল-টার’ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বক বা চামড়া পাতলা হয়ে যায়। তবে ডার্মাটোলজিস্টরা এই তথ্য ‘গুজব’ বা ভুল ধারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যাঁদের অ্যালার্জি নেই, ত্বক অতিরিক্ত স্পর্শকাতর নয়, তাঁদের জন্য এটি একেবারেই নিরাপদ। তবে গর্ভবতী বা স্তন্যদাত্রী মায়েদের এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যবহারবিধি
ক্রনিক খুশকি বা হালকা সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ‘কোল-টার’ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাঁরা উগ্র গন্ধ-যুক্ত প্রসাধনী একেবারেই পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য অন্য বিকল্প রয়েছে। তাঁরা জিঙ্ক পাইরিথিয়ন, কিটোকোনাজল, সেলেনিয়াম সালফাইড বা স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এতে ইরিটেশনের ঝুঁকি কম থাকে।