সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষা নিয়ে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট উত্তর শহরতলির যেসব পুজোয় খুব ভিড় হচ্ছে, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নিল। প্রকৃত ভিড়ের অবস্থা জানতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। সেইমত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে "এক্সিট গেট" ছোট ছিল তা বড় করা হয়েছে। পুজো কর্তাদের একটি বিশেষ নির্দেশ পুলিশ কমিশনারেটের তরফে পাঠানো হয়েছে।
সেই নির্দেশে বলা হয়েছে, পুজো কমিটি গুলিকে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ভালো রকম রাখতে হবে। মাইকে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। খুব বেশি ভিড় হয়ে গেলে পুজো মণ্ডপের ভেতরে বেশিক্ষণ যেন মানুষকে দাঁড় করানো না হয়। পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং নিজে বিভিন্ন দূর্গা মন্ডপ ঘুরে দেখছেন।
মূলত নাগেরবাজার, বরানগর, পানিহাটিতে দু তিনটে পুজো, বারাকপুরের দুটো পুজো, পলতায় একটি, ইছাপুরে দুটি, নৈহাটিতে একটি, হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ায় কয়েকটি পূজা মন্ডপে মারাত্মক ভিড় হচ্ছে। এই ভিড়কে সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশের দুর্গা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি কয়েকটি পূজা মন্ডপে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। যারা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুজোর ডিউটিতেও মোতায়েন করা হলো। চোর বাগানের ঘটনায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেইসব এলাকায় রীতিমতো শোকের আবহ চলছে। এর মধ্যে যাতে নতুন করে কোথাও কোনো অঘটন না ঘটে তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে পুজো কর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সবচেয়ে মাথাব্যথার কারণ হলো কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। যেখানে দুর্ঘটনা কমছেই না। বেপরোয়া গতির বলি আরো দুজন হয়েছে। সমস্ত ট্রাফিক পুলিশের প্রধান নজরদারি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দ্রুতগতির রাস্তা। যেখানে মহালয়ার পর থেকে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। আরো দু-তিন দিন যাতে নির্বিঘ্নে পার হয় সেটাই এখন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এর কাছে সবচেয়ে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এসিপি, ডিসিপি, এবং সিপি গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপ গুলো টহল দিচ্ছেন। পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং জানিয়েছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
