রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পর এবার গুদামঘরে অগ্নিসংযোগ চেষ্টা হয়েছে।
আজ রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
পরিদর্শক শাহাদাৎ জানান, আজ ভোরে ওই কুরিয়ার সার্ভিস থেকে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পায়নি। তবে টিনশেড গুদামের চাল থেকে একটি ২৫০ মিলি পেট্রলপূর্ণ বোতল ও পেট্রলে ভেজা কাপড় উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে ওই এলাকার আশপাশ থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।’
এর আগে, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে ওই জায়গার ভাড়া দেওয়ার দাবিতে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
হামলাকারীরা কার্যালয়ের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। পরে মুখোশ ও হেলমেট পরে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেন এবং ক্যামেরা ও ডিভিআর (ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র) খুলে নেন। যাওয়ার আগে কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর ও প্রায় ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুট করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস সূত্র ডেইলি স্টারকে জানায়, চুক্তির ভিত্তিতে সিকদার গ্রুপের কাছ থেকে জমিটি ভাড়া নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এত দিন তারা সিকদার গ্রুপকেই ভাড়া দিয়ে আসছিল।
সূত্রের ভাষ্য, হামলাকারীরা দাবি করেন, তারা সিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দিতে হবে। দাবি না মানলে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুমকি দেন।
হামলার পরের দিন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিদর্শক শাহাদাৎ জানান, রিমান্ডে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে লুট হওয়া কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
