পাবনার ভাঙ্গুড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা। উপজেলার কালিবাড়ি ও পালপাড়ায় দিন-রাত সমানতালে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। এ বছর ভাঙ্গুড়ায় ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। প্রতিমার কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে মাটির প্রলেপ, রঙ ও অলংকরণ- সব কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা। বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক পরিবারের জীবিকা ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে প্রতিমা নির্মাণের কাজে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। প্রতিমা নির্মাণের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সাজানো ও অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
মৃৎশিল্পী হরিদাস পাল বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। সময়মতো প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিমা যত্নসহকারে তৈরি করতে হয়।
আরেক মৃৎশিল্পী সঞ্জয় পাল বলেন, প্রতিমা তৈরি তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা। মাটির অবয়ব তৈরি, শুকানো, রঙ করা ও সাজসজ্জার প্রতিটি ধাপেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পূজার সময় ভক্তরা প্রতিমা দেখে আনন্দ পেলে তাদেরও ভালো লাগে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সংগীত কুমার পাল বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকিউল আযম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
