চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অসুস্থতার কথা জানান তিনি। এর আগে সোমবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভবনটিতে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য।
মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন উপাচার্যকে পরীক্ষা করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর রক্তচাপ পাওয়া গেছে ১২০/৮০।
তবে বেলা দুইটার দিকে উপাচার্যকে দেখতে যাওয়া রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে তাঁর রক্তচাপ ১৫০/১০০ পেয়েছেন বলে জানান। বুকে ব্যথার কথা শুনে তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
সাংবাদিকদের উপাচার্য বলেন, ‘আমার বুকের লেফট সাইডে ব্যথা করছে। আমি ডাক্তার দেখাতে চাই, হসপিটালাইজড হতে চাই।’
সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরদিন থেকে আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব পাওয়ার পরও নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। সোমবার শাখা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি।
তাঁর ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের দপ্তরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভবনের ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধ করে দেওয়া হয় পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তাঁরা তালা খুলে দেবেন।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানান, উপাচার্য এভাবে ক্যাম্পাসে আসবেন, তা তাঁরা ভাবেননি। তাঁরা নিজেদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। উপাচার্যের সঙ্গে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তাঁরাই উপাচার্যকে সহায়তা করুন।
The post অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসির বুকে ব্যথা, যেতে চান হাসপাতালে appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
