প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সারা বাংলাদেশের সঙ্গে বগুড়াকেও এগিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, তাঁর (প্রধান মন্ত্রীর) মাথায় প্লান আছে, বগুড়ায় কি হবে। আমরা যে প্লান প্লান বলি, সেই প্লান তাঁর আছে।
গতকাল বগুড়ায় এক মত বিনিময়ের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম।
তিনি বলেন, বগুড়ার যদি সত্যিই উন্নয়ন করতে চাই, তাহলে আমরা প্রধান মন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বগুড়ার উন্নয়নে এগিয়ে যাব।
বিগত সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার সময় অনেকে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তখন তাঁকে আরও সহযোগিতা করা হলে সড়কটি আরও প্রশস্ত করার সুযোগ থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুমন বলেন, তারেক রহমান কি সারাদিন বগুড়ায় থাকবেন? থাকবেন না, আসবেন মাঝে মাঝে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যখন মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কটি ৬০ ফুট প্রশস্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখন অনেকে বলেছিলেন, এতে অনেক দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন উদ্যোগটিকে সমর্থন করা হলেও এখন সড়কটি ৮০ বা ১০০ ফুট প্রশস্ত করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
বিগত সময় বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে ভণ্ডামি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আফসোস হয়, বিগত সময়ে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভন্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী। বিগত সময়ে যখন বিএনপি সরকার ছিল, তখন সরকারকে, তারেক রহমানকে এবং তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য বিভিন্ন নামে বগুড়ায়ও আন্দোলন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, হরতাল করেছেন। এখানে অনেকেই উপস্থিত আছেন, আমি নাম ধরে বললে অনেকেই লজ্জা পাবেন, যারা সেই সময়ে সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন।'
বিগত ১৭ বছরে বগুড়ার কি উন্নয়ন হয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, 'আপনারা কি একটা উন্নয়নের কথা বলতে পারবেন যে সেটি বগুড়ায় হয়েছে। আমাদের যে ভবিষ্য জন্ম আছে, আপনারা কি কখনো তাদের জন্য কিছু চেয়েছেন। আপনারা কি কখনো বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠান চেয়েছেন, চেয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়? বিগত ১৭ বছর গেছে, কই কখনো তো আপনাদের দেখিনি যে, আপনারা বলেছেন বিভাগ চাই ট্রেনিং সেন্টার চাই। গত ১৭ বছরে আপনারা কখনো তো কোনো কথা বলেননি। কত ১৭ বছর কি উন্নয়ন হয়েছে? একটা উন্নয়নের কথা আপনারা বলতে পারবেন? উন্নয়ন হয়নি অবনতি হয়েছে আমাদের।'
বগুড়ার একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'প্রয়াত আরাফাত রহমানের কষ্টার্জিত উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্টেডিয়াম করা হলেও পরবর্তীতে সেটি অকার্যকর করা হয়।'
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এখন সময় এসেছে, আমাদের প্রিয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সারা বাংলাদেশের সঙ্গে বগুড়াকেও এগিয়ে নিতে চান।
