কাঁধে বড় একটি ব্যাগ নিয়ে হাওড়া স্টেশনে ইতস্তত ঘুরছিলেন এক যুবক। সেই দেখে সন্দেহ হয়েছিল আরপিএফ জওয়ানদের। ওই যুবককে পাকড়াও করে ব্যাগ তল্লাশি করতেই চক্ষুচড়কগাছ হয় সকলের। ব্যাগের মধ্যে সাজানো ছিল রুপোর থালা, বাটি, প্রদীপ। ওই জিনিসপত্রের কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ওই যুবক। এরপরেই ওই জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে রেল পুলিশ। আটক করা হয়েছে ওই যুবককে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বছর ২৮ বয়সী বিবেককুমার সাউকে হাওড়া স্টেশনের পুরনো ডিআরএম অফিসের সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। ওই যুবক আদতে রাঁচির বাসিন্দা। হাওড়া-রাঁচি ক্রিয়া যোগা এক্সপ্রেস চেপে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বড় ব্যাগটি নিয়ে এলোমেলোভাবে ঘুরছিলেন তিনি। তাঁকে ব্যাগসমেত ঘুরতে দেখে রেল পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল।
ওই যুবককে পাকড়াও করে প্রাথমিকভাবে জেরা করা হয়। সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতেই পুলিশ কর্মীরা হতবাক হন। দেখা যায়, ব্যাগের মধ্যে থরথরভাবে সাজানো আছে রুপোর থালা, বাটি, প্রদীপ-সহ অন্যান্য সামগ্রী। বমাল-সহ ওই যুবককে পাকড়াও করে অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যাগের মধ্যে থেকে বেরয় রুপোর থালা, বাটি, মগ, প্রদীপ, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও প্রচুর পরিমাণে কয়েন। রুপোর মোট ওজন প্রায় সাড়ে ১০ কেজি। যার বাজারমূল্য ২৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ রুপো কোথা থেকে পেলেন ওই যুবক। কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওইসব জিনিস? পরে আরপিএফের পক্ষ থেকে সমস্ত রুপো এবং আটক ব্যক্তিকে আয়কর বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অতীতে হাওড়া স্টেশনে একাধিকবার বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার হয়েছে। কার্তুজ-আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে রেল পুলিশ। তবে উৎসবের মধ্যে এভাবে এত অঙ্কের রুপোর জিনিসপত্র শেষ কবে উদ্ধার হয়েছে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
