শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, আলোকচিত্রচর্চার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এমএমপিসি ন্যাশনাল লেন্স ফেস্ট সিজন-১। মতিঝিল মডেল ফটোগ্রাফি ক্লাবের (এমএমপিসি) উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ জাতীয় পর্যায়ের সৃজনশীল উৎসব আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে আলোকচিত্র, লেখালেখি, চারুকলা, চলচ্চিত্র, সংগীত ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়।
এমএমপিসি ন্যাশনাল লেন্স ফেস্ট সিজন-১-এর মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রসার এবং বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যোগাযোগ, দলগত কাজ, নেতৃত্ব ও উপস্থাপনাদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোকচিত্র ও অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (বিপিএস) মহাসচিব মো. জাকিরুল মাজেদ কনক (এবিপিএস, এএফআইএপি)। তিনি উৎসবের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহদ. আশহাবুল হক নান্নু।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আলোকচিত্রশিল্পী, বিচারক, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এমএমপিসি ন্যাশনাল লেন্স ফেস্ট সিজন-১-এ মোট ছয়টি প্রধান সৃজনশীল বিভাগ রাখা হয়। এগুলো হলো—ফটোগ্রাফি, কনটেন্ট রাইটিং, ম্যান্ডালা অ্যান্ড ফাইন আর্টস, শর্ট ফিল্ম, মিউজিক্যাল শোডাউন এবং কুইজ।
এসব প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতিথিদের বক্তব্য, পুরস্কার বিতরণী এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি প্রদানের আয়োজনও ছিল।
মতিঝিল মডেল ফটোগ্রাফি ক্লাব (এমএমপিসি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোকচিত্র ও সৃজনশীল শিল্পচর্চার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। ক্লাবটির উদ্যোগে আয়োজিত ন্যাশনাল লেন্স ফেস্ট সিজন-১ ছিল শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা জাদীদ যোবায়েদ হকের নেতৃত্ব ও আয়োজক দলের পরিকল্পনায় উৎসবটি আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে এবং ভবিষ্যতে সৃজনশীল অঙ্গনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
