সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত জানাজায় বাধার মতো একটি নজিরবিহীন ঘটনার অবসান ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের মধ্যস্থতায় ভাইয়ের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার চেক বুঝে নেওয়ার পর বাবার জানাজা ও দাফনে সম্মতি দেন শোকার্ত মেয়ে হালিমা বেওয়া। এর মাধ্যমেই দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে দুপক্ষের মধ্যে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভাই ইদ্রিস আলী তার বোন হালিমা বেগমকে নগদ অর্থের একটি চেক হস্তান্তর করেন।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক নাজির উদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারিত হয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন মৃত নাজির উদ্দিনের ৫০ বছর বয়সী মেয়ে হালিমা বেওয়া সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজায় কড়া বাধা দেন। তার জেদের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে মরদেহ।
হালিমা বেওয়ার অভিযোগ ছিল, তার বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় কৌশলে সমস্ত জমি ছেলের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের প্রাপ্য এক বিঘা জমি বা তার ন্যায্য অধিকার বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাবার জানাজা পড়তে দেবেন না বলে অনড় অবস্থান নেন। অন্যদিকে, মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি ছিল, তার বাবা জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছেন এবং ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো আইনগত বা বৈধ অধিকার নেই।
এ নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা এলাকার শত শত মানুষের মাঝে চরম অস্বস্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ধাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (আইসি) এস্তেখার হাসান জানান, পুলিশের উপস্থিতি এবং স্থানীয়দের সক্রিয় সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পারিবারিক এই বিরোধের একটি আইনসম্মত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
