বাধ্য হয়েছিলেন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে। গত সপ্তাহেই জানা যায় মৃত্যু হয়েছে তেলেঙ্গানার মহম্মদ আফজল খানের। মস্কোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কাছে তাঁর পরিবারের আবেদন, যেন তাঁর মৃত্যুর খবরটি যাচাই করা হয়। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
জানা যাচ্ছে, ৪৩ বছরের আফজলের পরিবারের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ আসে গত সপ্তাহে। সেই মেসেজটি পাঠিয়েছিলেন শিরশু অশোক। তিনি নিজেও বিভ্রান্ত হয়ে রুশ সেনায় যোগ দিয়েছিলেন। সেই মেসেজে বলা হয়, এক সপ্তাহ আগে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছে মারা গিয়েছেন আফজল। আর তারপরই উদ্বিগ্ন পরিবার সেই খবরের সত্যতা জানতে চেষ্টা করছেন।
তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার বানসওয়াড়ার বাসিন্দা আফজলের পরিবার বিদেশমন্ত্রকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্জি জানিয়েছে, খবরটি সত্যি কিনা তা জানতে। এবং মৃত্যু নিশ্চিত হলে যেন দেহটি শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি, তারা অন্য তিন ব্যক্তির নিরাপদে ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে।
এই মাসের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, রুশ সেনার হয়ে এখনও কাজ করছেন ৫৫ জন ভারতীয়। তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরাতে মস্কোকে আর্জি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি রুশ-ভারত কনসুলেটিভ কমিটির বৈঠকেও নয়াদিল্লি বিষয়টিকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছিল, এখনও পর্যন্ত ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। তবে ৫৫ জন ভারতীয় রুশ এখনও সেনায় কর্মরত। বর্তমানে তাঁরা কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছেন, তা জানতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগে রয়েছি। যে সমস্ত অসাধু দালালদের মাধ্যমে তাঁরা রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অসাধু দালালদের বিরুদ্ধে মস্কোকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ভারত। গত মাসে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ হওয়া ২২৭ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১৩৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।
