২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যায় ‘সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন’ শিরোনামে বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। এতে সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকা, সব মত ও পথের প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং জনসাধারণের সমস্যা ও দুর্ভোগ তুলে ধরার অঙ্গীকার করা হয়।
পাঠক, লেখক, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতা কামনা করে সম্পাদকীয়তে সংবাদপত্রকে পারিবারিক পাঠের উপযোগী রাখার এবং সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় নিয়ে মূল্য যথাসম্ভব কম রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আজ নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশেষ সম্পাদকীয়টি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন
তথ্য প্রগতির জন্য। সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য এটাই মূল কথা। সে লক্ষ্যে পৌঁছানো খুব একটা সহজ কাজ নয়! এ লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে একটি সংবাদপত্রকে অসত্য আর অশুভ নানা শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আপসহীন থাকতে হয়। সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন অবিচল থাকার প্রশ্নে হতে হয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবেই একটি সংবাদপত্রের পক্ষে দেশ ও জাতির জন্য শান্তি ও প্রগতির এক নয়া দিগন্তের সূচনায় সহায়ক ভূমিকা পালন সম্ভব।
সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে দেশ ও জাতিকে শান্তি ও প্রগতির শীর্ষে পৌঁছানোর মহতী লক্ষ্যে 'সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন' স্লোগান নিয়ে দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’র আত্মপ্রকাশ। নয়া দিগন্তের এই শুভ সূচনার মুহূর্তে আমরা আমাদের পাঠক, লেখক, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সকল মহলকে জানাতে চাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। সেই সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশা, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের অব্যাহত সাহস জোগাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে।
আজকের এই শুভদিনে আমরা পাঠক-সাধারণের কাছে সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলতে চাই, 'নয়া দিগন্ত'র যাবতীয় প্রয়াস হবে সার্বিক ও যথার্থ তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে আপসহীন। এ দেশের সকল মত ও পথ প্রকাশের সুষ্ঠু মাধ্যম হবে আমাদের ‘নয়া দিগন্ত’। এর মাধ্যমে আমরা দেশে মত প্রকাশের একটা সহনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। এমনই একটা পরিবেশ গড়ে তোলা আজ খুবই জরুরি বলে আমরা মনে করি। জনমানুষের মতামতকেই শুধু নয়, তাদের সমস্যা আর দুর্ভোগের কথাও আমরা তুলে ধরতে চাই। দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সমস্যার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান শ্রদ্ধাভাজনদের দেওয়া দিকনির্দেশনা তাদের লেখার মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে চাই। আমাদের নীতির্নিধারকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম আর সমস্যার জটগুলো।
আজকের দিনে সুষ্ঠু বিনোদন মাধ্যমের বড়ই অভাব। আমরা মনে করি একটি সংবাদপত্র একটি পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের পাঠ-চাহিদা পূরণের মাধ্যমে পরিবার থেকে শুরু করতে পারে সুষ্ঠু পাঠ-সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজটি। আর তেমনটি সম্ভব হলে দেশে অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। সে জন্যই আমরা 'নয়া দিগন্ত'কে করে তুলতে চাই সম্পূর্ণরূপে একটি পারিবারিক পত্রিকা, সকলে মিলে পড়ার মতো।
আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি, এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় ক্রয়ক্ষমতা রাখে না। আজকের দিনে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারেই পত্রিকার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন পত্রিকা কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। সে জন্য আমরা 'নয়া দিগন্ত'র মূল্য যথাসম্ভব কম রেখেছি। আশা করি, এতে সীমিত আয়ের পরিবারের লোকদের জন্য সংবাদপত্র পাঠ করার ক্ষেত্রে নতুন এক সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা আশা করি, পাঠক-সাধারণের সঠিক পরামর্শ 'নয়া দিগন্ত'র প্রতিদিনের পথ চলাকে করে তুলবে সহজতর। সে জন্য পাঠকদের পরামর্শকে আমরা স্বাগত জানাব। আমরা পাঠকদের পরামর্শকে বরাবর বিবেচনায় আনব গুরুত্বের সাথে।
