সাতক্ষীরা-চুকনগর মহাসড়কের ১৮ মাইল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক মাছ ব্যবসায়ীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
নিহতরা হলেন—খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারী গাজীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী রাফিউর রহমান রউফ (৪৩) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নিহত রাফিউর রহমান ও ইউনুস আলী মোটরসাইকেলযোগে ব্যক্তিগত কাজ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দর্শনের উদ্দেশ্যে তালা উপজেলায় যান। কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ১৮ মাইল এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ‘ইমাদ পরিবহন’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫২৫৯)-এর একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই সড়ক থেকে ছিটকে পড়েন এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী মালেকা পারভীন জানান, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান থেকে সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনে ওঠি। বাসটি শুরু থেকেই খুব বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল। রাত সোয়া ১টার দিকে চুকনগর এলাকায় টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসকে ওভারটেক করে বাসটি। এরপর রাত দেড়টার দিকে ১৮ মাইল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতমুখী মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। পরে সাতক্ষীরার কাটিয়া আমতলা এলাকায় পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যায়।
নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ভাইয়ের চুকনগর বাজারে মাছের আড়ৎ রয়েছে। রাত ৯টার দিকে ইউনুসকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে তালার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথেই বেপরোয়া বাস তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়। হাইওয়ে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা মরদেহ দুটি বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খালিদ হোসেন জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিহত রাফিউর রহমানের ভাই আব্দুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। ঘাতক বাসটি বর্তমানে সাতক্ষীরা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী হাইওয়ে পুলিশ বাদীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় আসার কথা। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় মামলা করতে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
