ছবি: খবরের কাগজ
-->ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া শুক নদীর ‘বুড়ির বাঁধে’ ঐতিহ্যবাহী মাছ শিকার উৎসবে মেতেছে হাজারো মানুষ। প্রতিবছরের মতো শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মাছ শিকার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বছরের পর বছর ধরে শীতের আগমনীতে এই মিলনমেলা উদযাপিত হয়ে আসছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বুড়ির বাঁধের পাঁচটি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। বাঁধের পানি কমতে থাকলে শনিবার ভোর থেকেই মাছ ধরতে নামেন আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ ধরার উৎসবে শামিল হতে আকচা ও চিলারং এলাকার বুড়ির বাঁধ প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই একত্রিত হন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। কারও হাতে খেওড়া জাল, কারও হাতে পলো, আবার কেউ বা কোচ (খোঁচা) ও লাফি জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম ছিল না, তারাও শখে কাঁদা-পানিতে নেমে হাত দিয়েই মাছ খোঁজা শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাছ ধরেছি। পুঁটি ও টেংরাসহ প্রায় কেজি দুয়েক মাছ পেয়েছি। মূলত আনন্দ-উল্লাসের জন্যই প্রতি বছর শখ করে এখানে মাছ ধরতে আসি।’
তবে মাছ ধরতে আসা জেলেদের অনেকে জানান, আগের তুলনায় এখন বিলে মাছের দেখা মিলছে কম। রিং জাল ও কারেন্ট জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৫১-৫২ সালে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমিতে সেচ সুবিধার জন্য শুক নদীতে এই জলকপাটটি নির্মাণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ‘বুড়ির বাঁধ’ নামে পরিচিতি পায়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উঁচু জমিতে সেচ সুবিধার জন্য এখানে পানি আটকে রাখা হয়। স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সে পানিতে ছাড়া হয় নানা জাতের পোনা মাছ, যা দেখভাল করে আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ। আর শীতের শুরুতেই বাঁধের পানি অপসারণের পর শুরু হয় এই উন্মুক্ত মাছ শিকারের উৎসব।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, বুড়ির বাঁধ সেচ প্রকল্পের সামনে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। বর্ষায় আটকে রাখা পানিতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং শীতের শুরুতে বাঁধ ছেড়ে দেওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য মাছ শিকার উন্মুক্ত করা হয়।
বিধান/এএফ
