আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে বদলে গিয়েছিল। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্রাণ গিয়েছিল একের পর এক। মৃত্যুমিছিল, হাহাকারের কারণ কী? চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের এক্সিট গেটে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার, ২১ অক্টোবর জারি করা মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে SIT-এর চেয়ারপার্সন করা হয়েছে।
কলকাতা হাই কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, কী পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে SIT। ঘটনার তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দিতে হবে।
SIT'র দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজির মনোনীত এডিজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এক প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) এক প্রতিনিধি।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে সিট তদন্ত করবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর-
ঘটনার আগে ও পরে ভিড়ের গতিবিধি, কত মানুষ মণ্ডপ চত্বরে উপস্থিত ছিলেন এবং নির্ধারিত নিরাপদ ধারণক্ষমতার তুলনায় ভিড় বেশি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রবেশ ও বেরনোর পথ, গেট, ব্যারিকেড, সিঁড়ি, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং মণ্ডপের পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হবে।
আবহাওয়া, বৃষ্টি বা ঝড়ের প্রভাব, গুজব, হঠাৎ ভিড়ের চাপ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অন্য কোনও কারণে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে তোলা ভিডিয়ো, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ফোনের রেকর্ড, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখবে দলটি।
পুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং পুলিশ, পুজো উদ্যোক্তা, কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল ও জরুরি পরিষেবার ভূমিকা কী ছিল, তাও পরীক্ষা করা হবে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলা বা সমন্বয়ের অভাবের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের সুপারিশ করতে পারবে SIT।
এ ছাড়া উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় বড় পুজোকে কেন্দ্র করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ, সিসিটিভি নজরদারি, জরুরি নির্গমন পথ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করবে তদন্তকারী দল। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তের প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের কাছে অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগের অনুরোধ করতে পারবে SIT। সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর, সংস্থা ও ব্যক্তিকে তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
