পাহাড়ের জনপদ রাঙামাটি থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন তরুণ মো. সাইমুন ইসলাম। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন সাইমুন।
তিনি রাঙামাটিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবুনন যুব সংস্থার রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী। তার এই অর্জনে গর্বিত সংগঠনটির সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাদের কাছে সাইমুনের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের সম্ভাবনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি।
স্বপ্নবুনন যুব সংস্থার অন্যতম কর্ণধার নূর তালুকদার মুন্না এক মন্তব্যে বলেন, উদ্যমী, সৃজনশীল ও পরিচ্ছন্ন মানসিকতার অধিকারী সাইমুন ইসলাম তার কর্মদক্ষতা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অর্জনকে সম্ভব করেছেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, আন্তরিকতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সাইমুন পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগে নির্বাচিত দুজনের একজন।
সাইমুন ইসলামের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, পরিশ্রম ও মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা। ২০১৭ সাল থেকে ‘স্বপ্নবুনন’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করে আসছেন তিনি।
শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্রে তরুণদের বিকাশ, নেতৃত্ব তৈরির পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন সাইমুন। দীর্ঘদিনের উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে তার ৬৯ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রোফাইল। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি মিলেছে।
ভৌগোলিকভাবে দুর্গম রাঙামাটিতে থেকে জাতীয় পর্যায়ে এমন সম্মাননা অর্জনকে নিজের জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সাইমুন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিকল্পনা, নিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণেরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
সাইমুন ইসলাম জানিয়েছেন, তার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, সহকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা। যারা বিভিন্ন সময়ে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
সাইমুনের এই সাফল্য রাঙামাটির তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ যে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেতে পারে, তার অর্জন সেই বার্তাই তুলে ধরে।
সাইমুন আশা করেন, এই সম্মাননা তার দায়িত্ববোধ আরও বাড়াবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার নতুন প্রেরণা জোগাবে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।
