বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেয় ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি এখনো তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হামলার কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট পরিচালনা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তবে বিমানবন্দরটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে একই দিনে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
তাদের দাবি, বিমানবন্দরটি এখনো তাদের ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’। সেখানে হামলা অব্যাহত রাখার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার থেকে সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হবে টার্মিনাল-১ দিয়ে। অন্যদিকে, এসব সংস্থার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে টার্মিনাল-২।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য টার্মিনাল-১ এবং সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য টার্মিনাল-২ ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, যেসব যাত্রীর টিকিট নিশ্চিত রয়েছে, তাঁদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি ও বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেয় ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি এখনো তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, বিমানবন্দরটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থা, বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের এটি ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা এলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের হামলার পর গত ১০ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর দুই দিন পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর কর্তৃপক্ষ আবারও ফ্লাইট পরিচালনা শুরুর ঘোষণা দিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব সংঘাতের মধ্যে বাড়তি নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হুতিবিরোধী সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ।
