জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। নোয়াখালীতে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা ও বিকাশ। তিনি নোয়াখালী জিলা স্কুল এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও তার আগ্রহ ছিল। ফুটবলে দক্ষতার কারণে তিনি নোয়াখালী জেলা দল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে মাঠে খেলেছেন। শিক্ষাজীবন ও খেলাধুলার অভিজ্ঞতার পর তিনি সরকারি প্রশাসনে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কামরুজ্জামান চৌধুরী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে দীর্ঘদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি হিসেবে রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালের ৩ মার্চ তিনি এক বছরের চুক্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কামরুজ্জামান চৌধুরী আবারও সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ পান।
চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি জনবলসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব পরিবর্তনের পর এবার তাকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হলো।
বিআলো/অর্নব