ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও দুধবাজাইল এলাকার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট অংশ ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ভেজা পোশাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অরুয়াইল ও দুধবাজাইল এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে পানির নিচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত পথচারী কাপড় ভিজিয়ে কষ্ট করে এই পথ পার হচ্ছেন। বর্ষাকালে কিংবা ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন সড়কের ভাঙা অংশে পানির স্রোত বেড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। এলাকাবাসী জানান, জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় রোগীদের কোলে করে অথবা বিকল্প উপায়ে সড়ক পার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের চরম আতঙ্ক ও কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। অনেক সময় যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল বাজারে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন হাসান মিয়া বলেন, “এটা আমাদের দীর্ঘ দিনের সমস্যা। মেম্বার চেয়ারম্যানরা ভোট নেওয়ার সময় আমাদের হাত পা ছোড়েন। পাশ করার পর তাদের আর মনে থাকে না।”
সরাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. সিগবাত উল্লাহ খন্দকার বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
এমএ
