আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে আসন সমঝোতার তৎপরতা। বিজেপিকে পরাস্ত করতে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেসের জোট প্রক্রিয়া নিয়ে টানাপোড়েন ও আলোচনা দুটোই এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে সমাজবাদী পার্টিকে প্রায় ১৭০টি বিধানসভা আসনের একটি সম্ভাব্য তালিকা পাঠিয়েছে কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, সাংগঠনিক শক্তি এবং জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতে আসনগুলিকে চারটি শ্রেণিতে (এ, বি, সি ও ডি) ভাগ করেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। 'এ' শ্রেণির আসনগুলিতে কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে অনড়, তবে 'সি' ও 'ডি' শ্রেণির ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে ছাড় দিতে দল পুরোপুরি প্রস্তুত।
লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ছয়টি আসনে জয় এবং রাহুল গান্ধীর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে উজ্জীবিত কংগ্রেস এবার বিধানসভায় অন্তত ১১৫ থেকে ১২০টি আসনে লড়তে চাইছে। এমনকি রাজ্য কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম মোট ৪০৩টি আসনের অর্ধেক দাবি করেছিলেন। যদিও অতীতে ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অখিলেশ যাদবের দলের সঙ্গে জোটে কংগ্রেস ১১৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সম্প্রতি সাহারানপুরের কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ মন্তব্য করেন যে, শুধু অখিলেশ যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে গিয়ে কংগ্রেস নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে সমঝোতা করবে না। অন্যদিকে এসপি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব জোট বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আসন নয়, তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপিকে হারানো এবং জয় নিশ্চিত করা।
আসন বণ্টন চূড়ান্ত করতে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিচুতলার সংগঠন মজবুত করতে এবং দলিত, ওবিসি ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে কাছে টানতে কংগ্রেস বলিয়া থেকে মিরাট পর্যন্ত একটি বিশেষ যাত্রার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে হাত শিবির। ২০২২ সালের নির্বাচনে দল বিপুল অর্থ সহায়তা দিলেও অধিকাংশ প্রার্থী আশানুরূপ লড়াই চালাতে পারেননি। ফলে এবার আর্থিক দিক থেকে সক্ষম, মাঠে সক্রিয় এবং জয়ের বাস্তবিক সম্ভাবনা রয়েছে—এমন প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। এখন আলোচনার টেবিলে দুই দল কতটা ছাড় দেয় এবং শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতার সমীকরণ কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
