ব্রোকারেজ হাউস কর্তৃক অর্থ আত্মসাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য বাংকো সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই করা ও অনিষ্পন্ন দাবির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আরও ছয়টি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস লেনদেনের ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখা এবং ঘাটতি পূরণে সময় দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
ছয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের অনুমোদন
কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে ছয়টি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, এনএলআই সিকিউরিটিজ, বি রিচ, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন সনদ দেওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে অভিপ্রায়পত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট ইস্যু করা হবে। পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস বাজারে ব্রোকার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্তকে প্রাথমিক অনুমোদন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই করা এবং এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া দাবির বিপরীতে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের বিধান অনুসরণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা মোট কতজন বিনিয়োগকারী এ সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীন মোট ১২টি পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এবং দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ পর্যাপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি মূল্যায়ন সূচকেও তাদের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান দুটি হলোÑ প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড এবং এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান দুটি হলোÑ পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
সাত প্রতিষ্ঠানকে ঘাটতি পূরণে সময়
নিট সম্পদসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান পরিপালনে ঘাটতি থাকায় সাতটি পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘাটতি নিরসন ও প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন পরিপালন নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন। এই সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হলোÑ প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এ ছাড়া দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠানÑ আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান- প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার মধ্যে ঘাটতি পূরণ ও বিধি-বিধান পরিপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্যাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নিট সম্পদের ঘাটতি নিরসন এবং প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান পরিপালনের জন্য আগেই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।