পাহাড়, মেঘ আর সবুজের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবান। প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে পাহাড়ি এই শহর। তবে যে শহর প্রকৃতির সৌন্দর্যে পর্যটকদের মুগ্ধ করে, সেই শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের অবসর কাটানোর মতো বিনোদনকেন্দ্রের সংকট রয়েছে। পর্যটকদের বেড়ানোর জন্য অনেক বিনোদনকেন্দ্র থাকলেও শহরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিনোদনের সংকট দেখা দিয়েছে।
বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ এলাকায় একসময় ছিল ‘বনশ্রী’ সিনেমা হল। সিনেমার পর্দায় গল্প দেখার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল স্থানীয়দের। কিন্তু সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেই আয়োজন। ২০১৬ সালে ভেঙে ফেলা হয় সিনেমা হলটি। পুরোনো সেই বিনোদনকেন্দ্রের জায়গায় গড়ে উঠেছে শুধু ব্যক্তিগত ভবন।
শুধু সিনেমা হল নয়, শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের অন্যতম জায়গা সেগুনবাগিচা এলাকার শিশুপার্কটিও এখন বন্ধ। সংস্কারের অভাবে ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে পড়ায় সেখানে শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ নেই। ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবসর কাটানোর উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পর্যটকদের জন্য পরিচিত এই শহরে বিনোদনকেন্দ্র থাকলেও স্থানীয়দের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। একসময় জেলা শহরে ছিল সিনেমা হল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে সেই বিনোদনের দ্বার। সিনেমা হল নেই, আধুনিক পার্ক নেই, নেই পরিকল্পিত কোনো বিনোদনকেন্দ্র। শহরে শিশুদের জন্য নির্মিত শিশুপার্কটিও সংস্কারের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কর্মব্যস্ততার বাইরে একটু স্বস্তির সময় কাটাতে স্থানীয়দের ভরসা হয়ে উঠেছে সীমিত কিছু উন্মুক্ত স্থান। চাহিদার তুলনায় এসব সুবিধা না থাকায় অবসর সময়ে সীমিত কিছু খেলাধুলা কিংবা ব্যক্তিগত বিনোদনের ওপর নির্ভর করছেন জেলার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম সুমন ও জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় নাগরিকদের জন্য কোনো উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র নেই। এ কারণে স্থানীয় মানুষজন দিন দিন বিনোদনের দিকে না ঝুঁকে মোবাইল ফোন কিংবা মাদকাসক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। তাই নতুন বিনোদনকেন্দ্র তৈরির দাবি জানান তাঁরা।
বান্দরবানের পর্যটনশিল্পকে ঘিরে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। পাহাড়, ঝরনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকেরা ছুটে এলেও শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন বিনোদনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। একটি শহরে পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি শিশুদের খেলার মাঠ, পার্ক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও উন্মুক্ত বিনোদনস্থল থাকা জরুরি। কিন্তু বান্দরবান শহরে এমন সুযোগ সীমিত থাকায় কবে নাগাদ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, সেই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন শহরের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে সেগুনবাগিচা এলাকায় গড়ে ওঠা একমাত্র শিশুপার্কটি বন্ধ রয়েছে। প্রবেশপথে ঝুলছে তালা। পার্কের ভেতরে চারদিকে জমে গেছে আগাছা। শিশুদের খেলাধুলার জন্য থাকা সরঞ্জামেও মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও অবকাঠামো ধসে গেছে। একসময় বনশ্রী সিনেমা হল নামে যে বিনোদনকেন্দ্রটি পরিচিত ছিল, সেটিও ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে শহরে কোনো বিনোদন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে রাজার মাঠ আর স্টেডিয়ামকেই সীমিত পরিসরে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক মনজুর ইসলাম জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুপার্ক খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পার্কের ভেতরে একটি ডিজিটাল ভবন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটির কাজ সম্পন্ন হলে পার্কটি স্থানীয়দের বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শহরে কী ধরনের বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
